স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল শিক্ষা বোর্ড’ গঠন না করাসহ ১০ দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজি এন্ড ফার্মেসি স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিপিএসএ)। ২৫ বছর আগের প্যারামেডিকেল শিক্ষার দিকে ফিরে গেলে তা মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করবে। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে বিএমটিপিএসএ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ছোট মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে আন্দোলনের এ ঘোষণা দেন বিএমটিপিএসএ-এর নেতৃবৃন্দ।
দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রস্তাবিত “প্যারামেডিকেল শিক্ষাবোর্ড’’-এর পরিবর্তে “বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’’ গঠন করা, ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের তীব্র বেকার সমস্যা দূর করা, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ২য় শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান, সকল সরকারি আই.এইচ.টি (ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি) সমূহের সকল অনুষদে বিএসসি ও এমএসসি কোর্স চালু করা।
দাবির মধ্যে আরও রয়েছে, স্বতন্ত্র পরিদফতর গঠন, বিএসসি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট/গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১ম শ্রেণীর পদ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার প্ল্যান বাস্তবায়ন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা, ডেন্টাল ও ফিজিওথেরাপি ডিপ্লোমাধারীদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা, ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদান, টেকনোলজিস্টদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিএমটিপিএসএ সদস্য সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় রায়সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল শিক্ষা বোর্ড আইন ২০১৪ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত মাসে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এক চিঠিতে আইনটি মন্ত্রিসভায় পাঠাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সারা দেশের মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে সরকার ‘‘প্যারামেডিকেল’’ বিলুপ্ত করে “ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’’ গঠন করে। দেশে বর্তমানে প্রতিবছর সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই হাজার চারশত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ভর্তি হচ্ছে এবং পাস করে বের হচ্ছে।
এর বাইরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। এ ছাড়া সারা দেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও দুইশ’র বেশি মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট রয়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদপত্রপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে এ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
এএইচ





