দেশে অবৈধ ফার্মেসির সংখ্যা এক লাখের বেশি। এসব ফার্মেসির পরিবেশ এমন যে এতে ওষুধের মান ঠিক থাকে না। ওষুধ রাখতে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে। কিন্তু এমন কিছু ফার্মেসি দেশে রয়েছে যেখানে গরমের সময় তাপমাত্রা অনেক বেশি। ফলে বেশি তাপে ওষুধ নষ্ট হয়ে যায় এবং এ ধরনের ওষুধ খেলে রোগ ভাল হয় না বলে জানান- বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: ইউসুফ।

শুক্রবার দেশের অন্যতম বৃহৎ খুচরা ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান লাজফার্মার ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বক্তৃতা করছিলেন। ঢাকা সাভারের হেমায়েতপুরে লাজ পল্লীতে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান। লাজফার্মা প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত তুলে ধরেন লাজফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: লুত্ফর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লাজফার্মার চেয়ারম্যান সৈয়দা মাহফুজা।

ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে বাংলাদেশের মতো এত ফার্মেসি নেই। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহারের পেছনে যত্রতত্র ফার্মেসি অন্যতম কারণ। মাথাব্যাথাসহ যেকোনো কিছু হলে সাথে সাথে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক নিতে পারছে মানুষ। এক্ষেত্রে ফার্মেসিগুলো কোনো নিয়ম মানছে না। এতে করে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এমনকি আইসিইউতে যে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়, সেটিও কাজে আসছে না। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে সামনে মহামারী দেখা দেবে।

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ না দিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। শিগগিরই সংসদে আইনটি পাস হবে। একই সাথে অবৈধ ফার্মাসিগুলোও বন্ধ করে দেয়া হবে। উন্নত দেশে ফার্মেসি একই রকম হলেও আমাদের এখানে ফার্মেসির পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও চলে। তাই লাজ ফার্মার মতো মডেল ফার্মেসি ও মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন ফার্মেসি ছাড়া মানহীন ফার্মেসিগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লাজফার্মার প্রতিষ্ঠাতা মো. লুত্ফর রহমান বলেন, লাজফার্মা লিমিটেড একটি প্রতিষ্ঠিত এবং সর্বাধিক বিশস্ত খুচরা ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। আমরা মানসম্মত ওষুধ বিক্রি করি। আমাদের মূললক্ষ্য সেবা, ব্যবসা নয়। আমরাই দেশের প্রথম সার্টিফাইড মডেল ফার্মেসি যারা নির্ধারিত তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করে।

এইচএম