যেসব শ্রমিক পালাক্রমে কাজ করে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে স্থুলকায় ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়। গবেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক কর্ম ঘণ্টায় পরিশ্রম যারা করেন, তাদের চেয়ে পালা শ্রমিকরা ৩০ শতাংশ বেশি মোটা হয়। এর মধ্যে ২৪ শতাংশই পুরুষ এবং নারী ২৩ শতাংশ।

ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সমীক্ষার গবেষণা পরিচালক রেচেল ক্রেগ বলেছেন, 'সার্বিকভাবে যেসব শ্রমিক পালাক্রমে কাজ করে তারা ততটা ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হয় না, যতটা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয় তাদের আরেক অংশ যারা নিয়মিত কর্ম ঘণ্টায় কাজ করে।'

ব্রিটিশ গবেষকদল পালা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার বলছেন, অভ্যন্তরীণ ঘড়ি হিসেবে পরিচিত মস্তিস্কের একটি অংশের (সার্কাডিয়ান ঘড়ি) দ্বারা মানবদেহ দিন ও রাতের সঙ্গে সমকালীন।

গবেষকদল বলেছেন, প্রজনন চক্রের সঙ্গে জড়িত হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করা, ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করা এবং ক্লান্তির মাধ্যমে পালাক্রমে কাজ শরীরের অভ্যন্তরীণ তাল বা নিয়মিত ঘটনাপ্রবাহ ব্যাহত করে।

যেসব শ্রমিক পালাক্রমে কাজ করে তাদের স্বাস্থ্যসম্মত ও সুষম খাবার খাওয়ার প্রবণতা কম বলে জানিয়েছেন ওই গবেষকদল।

সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সিমন আরচার বলেন, টিনেজার ও প্রাপ্তবয়স্ক তরুণরা সাধারণত বেশি সন্ধ্যা প্রকৃতির (ইভিনিং টাইপ) হয়। তাই তাদের শরীরের ঘড়ি দেরিতে সচল হয়।

তিনি বলেন, শরীরের গঠন রাতে খাওয়ার জন্য উপযু্ক্ত নয়। এটা ভালোভাবে চর্বি পরিষ্কার করে না। শিফট শ্রমিকদের উচ্চ ক্যালরির খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি এবং যা আপনার জন্য খুব একটা ভালো জিনিসে পরিবর্তন করে না।

আরচার বলেন, পালা কাজ সাধারণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে এবং এটা বাড়ছে। যা অসংখ্য মানুষের অনেক সমস্যার কারণ। স্থূলতার সঙ্গে ক্যানসারের স্পষ্ট সংযোগ আছে এবং এ সংযোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এছাড়াও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস বাড়ায়।

এআর, এমএ