অটিজমের চিকিৎসায় বড় ধরনের সফলতার ইঙ্গিত মিলেছে। নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়ার একদল গবেষক অটিজমের উদ্দীপনা দিতে জেনেটিক্যালি মোডিফাইড ইঁদুরের ব্রেনের ‘কোষ ছাঁটাই প্রক্রিয়া’ পুনস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

তারা গবেষণায় দেখছেন, অটিজম আক্রান্তদের মস্তিষ্কে অনেক বেশি স্নায়ুকোষ সংযোজক থাকে। মানুষের মস্তিষ্কে পুরোনো ও দুর্বল কোষ ছেঁটে ফেলার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে অটিস্টিক মস্তিষ্কে অতিরিক্ত সিন্যাপস বা স্নায়ুকোষ সংযোজক জমে ওঠে। তবে তাদের মস্তিষ্কে সিন্যাপস অতিরিক্ত উৎপন্ন হয় না। ফলে নতুন এ গবেষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, অটিজম নামের জটিল ব্রেন ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা সম্ভব।

এ কাজে গবেষকরা একটি প্রোটিনের প্রবাহ বন্ধ করতে রাপামাইসিন নামের একটি ড্রাগ ব্যবহার করেছেন। অটিস্টিক রোগীদের ক্ষেত্রে এটি অতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে, যা সিন্যাপস হ্রাসে ব্রেনের স্বাভাবিক ক্ষমতা রুদ্ধ করে দেয়।

মার্কিন জার্নাল ‘নিউরন’-এ প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, চিকিৎসার ফলে পরীক্ষাধীন ইঁদুরগুলোর অটিস্টিক আচরণ হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নিউরো-বায়োলজিস্ট ডেভিড সুলজার বলেন, ‘রোগ দেখা দেয়ার পর আমরা ইঁদুরগুলোর চিকিৎসার করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, "অটিজম জন্মের সময় প্রত্যক্ষ হয় না। পরে শৈশবে এটি লক্ষ্য করা যায়। তাই রোগ ধরা পড়ার পর কাজ করে এমন একটি চিকিৎসা দরকার।"

তিনি এএফপিকে বলেন, যদি আমাদের কাজ সঠিক হয়, তাহলে রোগটি ধরা পড়ার পর এর একটি কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনেও আমরা সক্ষম হবো।

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ