মহাপ্লাবন থেকে বাঁচতে হজরত নূহ (আ.) বানিয়েছিলেন সুবিশাল নৌকা। ৩০০ হাত লম্বা, ৫০ হাত চওড়া ও ৩০ হাত উঁচু সেই নৌকায় তিনি তুলেছিলেন আল্লাহ বিশ্বসী কিছু মানুষসহ জীবিত সব প্রাণীর নমুনা।
ধর্মবিশ্বাসী মানুষরা কোরআন কিংবা বাইবেলের বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণিত এই ঘটনা সত্য বলে মানেন। আবার ফিরে আসছে সেই 'নূহের নৌকা'। তবে এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। এবার আধুনিক নূহের নৌকা বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। ইতিহাসের ওই ঘটনার মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিতে প্রাণিজগতের তথ্য সংরক্ষণের নতুন ব্যবস্থার নাম দেয়া হয়েছে 'নূহের নৌকা'।
নূহের নৌকায় জীবিত প্রাণীর নমুনা সংরক্ষণের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কার হওয়া সব জীবের ডিএনএ তথ্য একত্রে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করেছে মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই সংরক্ষণের কাজটি করা হবে শীতল অবস্থায়।
এই প্রকল্পকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী ডিএনএ ব্যাংক। আর এর জন্য খরচ করা হচ্ছে ১০০ কোটি রুবল।
মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, আমরাই প্রথম বৈজ্ঞানিক ভিত্তির নূহের নৌকা তৈরি করে রুশ জাতিকে উপহার দিতে চাই। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যেই তারা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব প্রাণীর ডিএনএ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ভিক্তর সাদিভিনচি বলেন, ‘সৃষ্টি জগতের একটি ভালো ভাণ্ডার এখানে তৈরি হবে। যাকে আধুনিক যুগের নূহের নৌকা বলতে পারেন। এই ভাণ্ডারে শুধু বর্তমানে টিকে থাকা প্রাণীদেরই নয় একইসঙ্গে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিলুপ্ত প্রাণীদেরও ডিএনএ নমুনা রাখা হবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ডিএনএ ভাণ্ডার তৈরি হলে পৃথিবীতে বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের রক্ষার ব্যাপারেও নেয়া সম্ভব হবে। এটিকে অনেকটা শীতল জমাট চিড়িয়াখানাও বলতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা বলেন, এর মধ্যে থেকে যে কেউ যেন যে কোনো প্রাণী সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন তারও ব্যবস্থা করা হবে। ডেইলি মেইল, ডেইলি সাবাহ।
ইআর





