হাঙ্গেরি সীমান্তে শিশু ও বয়স্ক কয়েক শরণার্থীকে লাথি মারা সেই নারী ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে পুলিশের ভয়ে পলায়নপর এক শরণার্থীকে পেট্রা লাজলো নামের এক ফটোগ্রাফার ল্যাং মেরে এবং লাথি দিয়ে ফেলে দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফটোগ্রাফার পেট্রা লাজলো এক শিশুকে নিয়ে পলায়নপর বাবাকে লাথি দিচ্ছেন- এমন ছবি বের হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়া, দৌড়ে পালাচ্ছে এমন একটি শিশুকে এ ফটোগ্রাফার লাথি দিয়েছে। এ ছবিও প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সার্বিয়া সীমান্তের রোজকে শহরের কাছে এসব ঘটনা ঘটে।

হাঙ্গেরির উগ্র ডানপন্থি জোবিক পার্টি পরিচালিত ইন্টারনেটভিত্তিক এন-১ টেলিভিশনের হয়ে কাজ করছেন ফটোগ্রাফার পেট্রা লাজলো। তার বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির দুটি ছোট রাজনৈতিক দল অপরাধমূলক তৎপরতার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দেশটির ডেপুটি প্রসিকিউটর স্যান্ডোর টোরো জানিয়েছেন, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আরো বড় অপরাধমূলক অভিযোগ পাওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পেট্রা লাজলোর এ লাথি মারার ছবি দিয়ে ফেইসবুকে ঘৃণা জানানোর একটি পেইজ খোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ পেইজে লাইক পড়েছে ৩০,০০০। এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, “আপনি আপনার পেশার প্রতি সম্মান দেখান নি।”

মানবাধিকার সংগঠন হাঙ্গেরিয়ান হেলসিংকি কমিটির কর্মী আনিকো বাকোনিয়ি বলেছেন, “এগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক ছবি। আপনি একটি সংবাদ সংস্থার অংশ। আপনি হাত দিয়ে ছবি তুলছেন আর পা দিয়ে কাউকে আঘাত করছেন।”

ভিডিওতে দেখা গেছে, লাজলো শুধুমাত্র বিদেশীদেরকে লাথি দিচ্ছে; অন্য কাউকে নয়। এর মধ্যে একটি শিশু রয়েছে, যে কিনা সুস্পষ্টভাবে একজন অভিবাসন প্রত্যাশী। (সূত্র: আইআরআইবি)

এআর