সামরিক অভ্যুত্থানে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কিছু প্রশ্নের জটিলতায় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দুই দেশের সন্দেহ আর অবিশ্বাসের দোলাচলে থমকে দাঁড়িয়েছে আইএসবিরোধী সামরিক অভিযান।
তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িতদের বিচারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশ্ন এবং উত্তরের পিছনে সচ্ছতার বিষয়ে কোন কিছু নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এরই মধ্যে তুরস্কের বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, 'তুরস্কের দক্ষিণে সিরিয়া সীমান্তের বিমানঘাঁটির বিদ্যুৎ–সংযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে'।
সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠন আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্তের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করছিল। অভ্যুত্থানচেষ্টা সামলে ওঠার পর তুরস্কের এই বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উড্ডয়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইএস জঙ্গিদের নির্মূলে তুরস্কের নিজস্ব যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নও দক্ষিণের বিমানঘাঁটি থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, তুরস্ক সরকারের কাছ থেকে নতুন করে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানকে দক্ষিণের বিমানবন্দরটিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
এরদোগান সরকারের শ্রমমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, তুরস্কের সরকার উৎখাতের চেষ্টার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাব্লাট ক্যবোসগ্লুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। অভ্যুত্থানচেষ্টার সময় মার্কিন সরকার এরদোয়ান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।
এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে ফেরত চেয়েছেন। বলেছেন, গুলেনকে ফেরত না দেওয়ার প্রভাব বিভিন্নভাবে পড়বে। গুলেনকে তুরস্কের হাতে তুলে দেওয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে কি না তা নির্ভর করছে।
এরদোয়ান অভ্যুত্থান চেষ্টায় ইন্ধন দেওয়ার জন্য গুলেনকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করেছেন। বলেছেন, আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কৌশলগত অংশীদার হলে গুলেনকে আশ্রয় না দিয়ে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। তুরস্কের হিজমত ধর্মীয় আন্দোলনের নেতা গুলেন যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে। গুলেন অবশ্য অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ফেতুল্লা গুলেনের বিরুদ্ধে তুরস্ক আগে থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে। তুরস্ককে বলা হয়েছে গুলেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করার জন্য। কেরি বলেছেন, ফেতুল্লাহ গুলেন যে তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তাঁর যুক্তিযুক্ত প্রমাণ দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র গুলেনের বিষয়টি ভেবে দেখবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, তুরস্কের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই।
জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে তুর্কি সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, তুরস্কের অভ্যুত্থানচেষ্টা অনেককেই অবাক করেছে। এই চেষ্টা চৌকস মনে হয়নি। গতকাল শনিবার বিকেলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তুরস্কে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের আগে আবার ভাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেড





