ইয়েমেনের স্বেচ্ছাসেবী ও সশস্ত্র বাহিনীর সেনারা সৌদি আরবের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিজান ও নাজরানে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের শহরগুলোর ওপর সৌদি বিমান বাহিনীর নির্বিচার চলমান হামলার জবাবে গতরাতে (শুক্রবার) সৌদি সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্য করে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সমর্থিত সেনারা।

এইসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। সৌদি আরব ইয়েমেনে তার পছন্দের ব্যক্তি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য গত ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে আসছে।

সৌদি সেনাদের বোমা হামলায় দশ হাজার বেসামরিক ইয়েমেনি নিহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আহত হয়েছে আরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

সৌদি হামলার জবাবে ইয়েমেনিরা মে মাসের প্রথম দিক থেকে সীমান্তবর্তী সৌদি শহরগুলোতে হামলা শুরু করে। তারা বহু সৌদি সেনাকে হত্যা করেছে এবং ধ্বংস করেছে অনেক সৌদি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান। ইয়েমেনিরা অনেক সৌদি অস্ত্র ও এমনকি ক্ষেপণাস্ত্রও হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি হামলার অন্যতম টার্গেট ছিল আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়া। কিন্তু সৌদি অভিযান শুরুর আগে আনসারুল্লাহর দখলে ছিল ইয়েমেনের ৪৫ শতাংশ ভূমি এবং তাদের প্রতি ইয়েমেনিদের সমর্থনের হারও ছিল ৫৫ শতাংশ।

কিন্তু সৌদি হামলার পর আনসারুল্লাহ এখন ইয়েমেনের ৮৫ শতাংশ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং আনসারুল্লাহর প্রতি ইয়েমেনি গোত্রগুলোর জনসমর্থনও বেড়ে ৯০ শতাংশ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে এডেনে ইয়েমেনি সেনাদের হামলায় আলকায়দার ৯০ সেনা নিহত হয়েছে বলে খবর এসেছে। অন্য এক খবরে জানা গেছে ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে জেনেভায় যে শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে তাতে যোগ দেয়ার জন্য আনসারুল্লাহর প্রতিনিধিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে তারা বলেছেন, জেনেভায় যে হোটেলে সাবেক স্বৈরশাসক হাদি উপস্থিত থাকবেন তারা সেই হোটেলে উঠবেন না।

এসএইচ