ইউক্রেনে যুদ্ধ আজ ১০০ দিনে ঠেকল। একদিকে নাছোড়বান্দা পুতিন, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর মার্কিন সহায়তায় রাশিয়াকে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা ইউক্রেন।

এর ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেমন দুদেশেই কমছে-তেমনি যুদ্ধের আঁচ পড়েছে বিশ্বজুড়ে। সবমিলিয়ে যুদ্ধের ১০০ দিনে রাশিয়ার অর্জন পূর্ব ইউক্রেনে নিজেদের আধিপত্য, ইউক্রেন হারাল প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষ।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটির কয়েকটি শহর। আর বিশ্ব বিদ্ধ হলো ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার তীরে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২। হঠাৎই বাজ পড়ল ইউক্রেনীয়দের মাথায়। নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসনে নামে রাশিয়া।

একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এগোয় কিয়েভ দখলে। পালটা প্রতিক্রিয়ায় ডজন ডজন নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা গোষ্ঠী। মাত্র ৩ দিনে কিয়েভ দখলের পরিকল্পনা থাকলেও ইউক্রেনে প্রবল প্রতিরোধে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে নেয় মস্কো।

কিয়েভ থেকে পিছু হটে তীব্র আক্রমণ শুরু করে খারকিভ, মারিউপোল, বুচা, খেরসন, দনবাসসহ পুরো পূর্বাঞ্চলে। ইতোমধ্যেই বন্দরনগরী মারিউপোলে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে ইউক্রেন। এখন পালা দনবাসের। তবে সামনের দিনগুলোতে আরও পালটে যেতে পারে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ চিত্র। ইউক্রেনে আরও ভারী অস্ত্র পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকদিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে রাশিয়া ভূখণ্ডে আক্রমণে সক্ষম দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম।

এবার ডেনমার্কে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করল রাশিয়া : রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী রুবলে মূল্য পরিশোধ না করায় এবার ডেনমার্কে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ডেনমার্কের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি ওর্স্টেড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধে রাজি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়ায় ও নেদারল্যান্ডসের পর সর্বশেষ ডেনমার্কে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করল মস্কো।

দুই লাখ শিশু অপহরণের অভিযোগ ইউক্রেনের : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, জোর করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয়দের মধ্যে দুই লাখ শিশু রয়েছে। এসব শিশুদের মধ্যে এতিমখানার বাসিন্দা, বাবা-মায়ের সঙ্গে নেওয়া শিশু এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুরা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের দিনে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ অপরাধমূলক নীতির উদ্দেশ্য শুধু মানুষ চুরি করা নয় বরং যারা নির্বাসিত হয়েছে তাদের ইউক্রেন সম্পর্কে ভুলিয়ে দেওয়া এবং ফিরে আসতে অক্ষম করা।’

৪টি দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পরিকল্পনা ড্রোন বিক্রিরও : ইউক্রেনকে প্রাথমিকভাবে ৪টি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার পেন্টাগন জানিয়েছে, এই রকেট সিস্টেম পরিচালনার জন্য তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ লাগবে ইউক্রেন সেনাদের। পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কলিন কাল জানিয়েছেন, নতুন এসব সিস্টেম দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা হবে না বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রকেট সিস্টেমের পাশাপাশি চারটি এমকিউ-১সি গ্রে ঈগল ড্রোন বিক্রির পরিকল্পনাও করছে বাইডেন প্রশাসন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এই খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই ড্রোন দিলেও ইউক্রেনে তাদের সেনা অভিযানের বিপক্ষে কোনো কার্যকর কিছু হবে না, রাশিয়ার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

এমআর