হাঙ্গেরিয়ান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টোর ওরবান বলেছেন যে সিরিয়ার মতো যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর মানুষের হাঙ্গেরী সীমান্ত পার হওয়া উচিত না।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তার দেশের সীমান্তে উঁচু কাটাতারের বেড়া দেয়ার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন স্কুলাজের সঙ্গে ব্রাসেলসে সংবাদ সম্মলনে প্রধানমন্ত্রী ওরবান বলেছেন, "দয়া করে, আপনারা আসবেন না....এখানে আসা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা নিশ্চিয়তা দিতে পারছি না যে আপনাদেরকে প্রহণ করা হবে। মানুষের স্বপ্ন মিথ্যা করে দেয়া কোনো মানবিকতা বা নৈতিকতা হতে পারে না।"
অস্ট্রিয়া বা জার্মানি যেতে হাজার হাজার শরণার্থীরা হাঙ্গেরীর রাজধানী বুদাপেস্টের প্রধান রেল স্টেশনে ভিড় জমিয়েছিলেন।
ইউরোপে শরণার্থীদের আগমন ফেরাতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে হাঙ্গেরী অনেক বেশি সমালোচিত হয়েছে।
সার্বিয়া সীমান্তে বেড়া দেয়াসহ অনেক কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে হাঙ্গেরী। এর ফলে শরণার্থীদের দেশটিতে যাওয়া ও থাকা আরো বেশি কঠিন হয়ে যাবে। সরকার আশ্রয় প্রার্থীদের আইন আরো কঠিন করতে যাচ্ছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে।
হাঙ্গেরীর প্রধানমন্ত্রী ওরবান বলেছেন, "আমরা হাঙ্গেরিয়ান ও ইউরোপের লোকজন ভয়ে আছি। কারণ প্রধানমন্ত্রীরাসহ ইউরোপিয়ান নেতারা এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।"
পুলিশ শরণার্থীদেরকে যেতে বাধা দেয়ায় হাজার হাজার শরণার্থীরা গত দু'দিন ধরে অতি কষ্টে বুদাপেস্ট রেল স্টেশনের বাইরে ঘুমিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে যেতে দিলে, অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী শহর সোপরোনগামী একটি ট্রেনে তারা গাদাগাদি করে উঠেছেন।
ওরবানের চিফ অব স্টাফ জানিয়েছেন যে হাঙ্গেরীর পুলিশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শেনজেন চুক্তি মেনে চলবে এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তগামী আন্ত:নগর ট্রেনে চলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় বিষয় চেক করবে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড তুস্ক একই সময় বলেছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্র ও নতুন পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজনের ফলে শরণার্থী সঙ্কট সমাধানের প্রচেষ্টা আরো জটিল হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, "ইইউ'র পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটি বিভাজন আছে। কিছু কিছু সদস্য রাষ্ট্র হাঙ্গেরিয়ান বেড়া প্রতীক হিসেবে দেখিয়ে অভিবাসীদের আগমন মানিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে।"
জেডআই





