স্বাধীনতার জন্যে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি। বৃহস্পতিবার তিনি কুর্দিস্থানের পার্লামেন্টে এ আহ্বান জানান। খবর রয়টার্সের।

প্রেসিডেন্ট বারজানি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টকে গণভোটের আয়োজন করার জন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন। একটি স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা করা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এখন যখন ইরাকে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এই সুযোগে তারা স্বাধীনতার দাবি তুলতে চাচ্ছে।

গণভোটের পক্ষে প্রেসিডেন্ট বারজানি বলেন,"এটি আমাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করবে এবং আমাদের হাতে একটি শক্তিশালী 'অস্ত্র' আসবে।"

শুক্রবার বারজানি বাগদাদ সরকারকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা তেলসমৃদ্ধ কিরকুক শহরে আর স্বায়ত্তশাসনের পথে ফিরবেন না। তাদের চাই পুরো স্বাধীনতা। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বারজানিকে বাগদাদ সরকারের সঙ্গে থাকার দাবি জানিয়েছে। তবে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। কুর্দিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার। এই আঞ্চলিক সরকারটি বরাবরই ইরাকের বাজেটে সামান্য পরিমান অর্থ পরিশোধ করত।

কিন্তু সম্প্রতি কিরকুক শহর এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা কুর্দি বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়ার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে বুধবার কুর্দিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মালিকি বলেন,‘তারা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে এবং তাদের এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।’

তবে ইরাকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার জন্য গণভোটের আহ্বান নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সাল থেকেই তারা স্বাধীনতার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে ৫০ লাখ কুর্দি অধ্যুষিত এ অঞ্চলটি। ইরাকে সুন্নী বিদ্রোহীদের চলমান আগ্রাসণ তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের দরজা খুলে দিয়েছে। ইরাক সরকারের স্বায়ত্ত্বশাসনে থাকা কুর্দীরা গত কয়েক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার পরিমাণ পশ্চিম ও উত্তরাংশে ৪০ ভাগ বাড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

ঢাকা, ০৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ