ইউক্রেনে গত সপ্তাহে বিধ্বস্ত হওয়া মালয়েশিয়ান বিমানের নিহত যাত্রীদের মৃতদেহ নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে ইউক্রেনের খারকিভ বিমানবন্দরে সেনা কর্মকর্তারা নিহতদের সম্মানে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে সেগুলো নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিহত যাত্রীরা নেদারল্যান্ডস থেকে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিলেন এইডস বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে। পথিমধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়।

নেদারল্যান্ডসের রাজ পরিবার ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের তত্ত্বাবধানে মৃতদেহ বহনকারী বিমানটি গ্রহণ করা হবে।

এরপর মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার জন্য ওউডেউসডেন ব্যারাকে নেওয়া হবে। পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্ক রুট।

এদিকে, নিহতদের স্মরণে বুধবার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস সরকার।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কমপক্ষে দুইশ’ মৃতদেহ মঙ্গলবার একটি হিমায়িত ট্রেনে ইউক্রেন সরকার নিয়ন্ত্রিত খারখিভ শহরে নেওয়া হয়েছিল। এদিকে, অবশিষ্ট মৃতদেহ উদ্ধার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্স নেদারল্যান্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা। ওই ব্ল্যাকবক্সের তথ্য যাচাই করে দেখার জন্য যুক্তরাজ্যের ফার্নবোরোতে পাঠানোর কথা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশের নাগরিক ওই বিমানে ছিলেন সেই দেশগুলোর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাস্থল যথাযথভাবে সিলগালা করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আলামতগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও উদ্বেগ জানিয়েছে দেশগুলো।

গত ১৭ জুলাই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রুশ বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় ২৯৮ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১৭ বিমানটি। এতে বিমানটিতে সব আরোহী নিহত হন। বিমানটির আরোহীদের অধিকাংশই ছিলেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।

বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা ভুল করে বিমানটি ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দারা। অন্যদিকে ইউক্রেন বাহিনীকে বিমানে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করে আসছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। দোনেস্ক ও লুহানস্কে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিদ্রোহীদের শক্তিশালী ঘাঁটি ‍দোনেস্ক থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেভেরোদোনেস্ক শহরটি সেনারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্সেন আভাকভ।

গত এপ্রিল থেকে পূর্ব ইউক্রেনে শুরু হওয়া সংঘর্ষে কমপক্ষে এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সূত্র : বিবিসি

ঢাকা, ২৩ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ