আগামীকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শেষ দফার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ দফায় পূর্ব মেদিনীপুর (১৬) ও কোচবিহার (৯)-এই দুই জেলার ২৫ আসনে ভোটগ্রহণ হবে।

সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। দুই জেলা মিলিয়ে ভোট দেবেন প্রায় ৫৮ লাখ ৪ হাজার ১৯ জন। ১৭০ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১৮ জন। এদফাতেও বিদায়ী তৃণমূল সরকারের একাধিক মন্ত্রীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। দলের অন্যতম এই সেনাপতিকে এবার নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। জিতে আসতে পারলে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রালয়ের দায়িত্ব তাঁর জন্য পাকা।

স্বভাবতই এই কেন্দ্রের প্রতি নজর সকলেরই। এছাড়াও রয়েছেন পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার, সমবায় মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর, বন দফতরের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। নজর থাকবে তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী হিতেন বর্মন, সিপিআইএম’এর সাবেক মন্ত্রী চক্রধর মেইকাপ, কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা নির্বেদ রায়, ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া উদয়ন গুহ’এর মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের দিকেও।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে প্রতিটি জায়গাতেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি। দুইটি জেলায় কোনরকম সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩৬১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই দুই জেলাতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভোট শেষ না হওয়ার পর্যন্ত জারি থাকবে এই ধারা। বুথের ত্রিসীমানায় ভোটার, সাংবাদিক, ভোটকর্মীরা ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওযা হবে না। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও থাকছে মাইক্রো অবজারভার, কুইক রেসপন্স টিম, ফ্লাইং স্কোয়াড, ডিজিটাল ক্যামেরা, ক্যামেরা লাগানো গাড়ি, সাধারণ পুলিশ এবং হিসাব সম্পর্কিত পর্যবেক্ষক।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এদফার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাবেক ছিটমহলবাসীদের ভোটাধিকার পাওয়া। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম ভোট দিতে চলেছেন ভারতে থাকা ৫১ টি ছিটের ৯৭৭৬ জন ভোটার। ছিটমহলবাসীদের মধ্যে সব থেকে প্রবীণ ভোটার হলেন আসগল আলি (১০৩ বছর), থাকেন মধ্য মশালডাঙায়।

আগামীকাল ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ৪ হাজার রাজ্য পুলিশ দিয়ে কোচবিহারের ৯টি আসনে ভোট করানো হবে। এই নয় আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২১ লাখের কিছু বেশি। এদিকে ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়ায় ইতোমধ্যেই খুশিতে মেতে উঠেছেন সাবেক ছিটমহলবাসীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল শুরু হয় প্রথম দফার ভোট। প্রায় এক মাস ধরে ছয় দফার সাত পর্বে এই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে চলছে ভোট প্রক্রিয়া। ভোট গণনা আগামী ১৯ মে।

এমআর