যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যকর্মী আব্দুল রহমান কাসিগের হত্যাকে ‘নিছক শয়তানের কাজ’বলে এর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
আলোচিত সশস্ত্র গোষ্ঠি ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক ব্যক্তির পায়ের কাছে একটি কাটা মাথা পড়ে আছে। পরে ওই মাথাটি কাসিগের বলে নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস।
তার বাবা-মা বলেছেন, ‘সিরীয় জনগণের প্রতি ভালোবাসার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হলো।’
সিরিয়ায় সাহায্যকর্মীদের একটি গোষ্ঠির সঙ্গে কাজ করার সময় ২০১৩ সালের অক্টোবরে ২৬ বছর বয়সী কাসিগকে অপহরণ করে আইএস। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর রেঞ্জার হিসেবে ২০০৭ সালে ইরাকে কর্মরত ছিলেন।
কাসিগকে নিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচজন পশ্চিমা নাগরিককে হত্যা করলো আইএস। এর আগে ব্রিটিশ নাগরিক অ্যালান হেনিং ও ডেভিড হেইন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক জেমস ফলি ও স্টিভেন সটলফের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছিল গোষ্ঠিটি।
আইএস জঙ্গিরা গত কয়েক মাসে সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ইসলামি খেলাফত ঘোষণা করেছে। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটিকে থামাতে দেশ দুটির সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। গণহত্যা, শিরশ্ছেদ, ধর্ষণ, অপহরণের মতো তৎপরতা চালিয়ে বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে সংগঠনটি।
কাসিগের প্রশংসা করে ওবামা বলেন, ‘তিনি মানবাধিকারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। অমানবিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠি তাকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, এটি নিছক শয়তানের কাজ।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সবাই শোকাভিভূত, তা সত্বেও যে অদম্য মনোবল ও শুভশক্তি আব্দুল রহমান কাসিগকে উজ্জীবিত করেছে আমরা তা স্মরণ করছি।’
অস্ট্রেলিয়ায় জি-২০ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ওবামা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা কাসিগের বাবা এড ও মা পলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ছেলের মৃত্যুতে তাদের মন ভেঙে গেছে।
তারা বলেন, ‘আমাদের ছেলে মানবিকতার জন্য তার সারাজীবন উৎসর্গ করেছে। এজন্য আমরা গর্বিত।’
এমএ





