ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বৃহত্তম নগরী দনেৎস্কে বুধবার ব্যাপক সহিংসতায় ১০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বাবা-মা ও শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে গত মাসে কিয়েভ ও রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে একটি অস্ত্র বিরতি চুক্তির পর একক হামলায় এটি সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা।
এ ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আতংকিত শিশুরা বাধ্য হয়ে একটি ভবনের বেজমেন্টে আশ্রয় নেয়। বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনে তারা সেখানে গিয়েছিল।
এদিকে এ অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় উভয় পক্ষ অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে।
এ সহিংস ঘটনার যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সমালোচনা করেছে। এদিকে স্নায়ুযুদ্ধের পর পূর্ব-পশ্চিম সবচেয়ে অবনতিশীল সম্পর্কের ঘটনায়ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে মঙ্গলবার মস্কোর বিরুদ্ধে অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ইউক্রেনে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর রাশিয়ার যে প্রভাব রয়েছে তা কাজে লাগাতে মস্কোর ‘দায়িত্বশীলতার’ ওপর গুরুত্ব দেন।
জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, টেলিফোনে কথা বলার সময় মার্কেল রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর প্রভাব কাজে লাগাতে রাশিয়ার দায়িত্বশীলতার ওপর বেশী জোর দেন।
সরকার নিয়ন্ত্রিত মারিউপোল নগরী ভিত্তিক কিয়েভপন্থী দনেৎস্কের আঞ্চলিক সরকার ওই বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করে।
তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় প্রাপ্ত বয়স্ক চারজন নিহত হয়। ওই বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৫০০মিটার দূরে একটি বাসস্ট্যান্ডে মিনিবাসে অপর এক হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছে।
বাসের চালক মিখাইল দ্রবুতান এএফপিকে বলেন, ‘যাত্রীদের ওঠার জন্য আমি বাসের দরজা খুলতে যাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে।’ তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে আহত আরো অনেককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি পায়ে আঘাত পেলে কেউ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বাসের পিছন দিকে হামলা চালানো হয়।’
বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিন উপলক্ষে সমাবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করানোর পরপরই সেখানে হামলা চালানো হয়।
আজ বিদ্রোহীদের ওয়েবসাইটে এ হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের গোলন্দাজ বাহিনীকে দায়ী করা হয়।
এসএমএ





