শুধু গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুই লাখ ২৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বেকারত্বের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। শুক্রবার সকালে প্রকাশিত ট্রাম্পের শাসনামলের প্রথম কর্মসংস্থানের রিপোর্টে দেখা যায়, গত মাসের শেষদিকে প্রেসিডেন্ট ওবামার বিদায়ের পরও দেশটির শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন। এক বিবৃতিতে কংগ্রেসের ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স কমিটির চেয়ারম্যান কেভিন ব্রাডি বলেন, “আজকের চাকরির রিপোর্ট একটি শুভ সংবাদ। আমাদের অর্থনীতি তার ভিত্তি খুঁজে পেতে শুরু করেছে তবে একে পূর্ণ গতিতে চালু করতে হলে আমাদের আরও অনেক কিছু করার রয়েছে।”
ট্রাম্প এখনও তিন সদস্যের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের জন্য কোনও অর্থনীতিবিদের নাম ঘোষণা করেননি। এই কাউন্সিল হোয়াইট হাউসকে অর্থনীতি সম্পর্কিত উপদেশ দিয়ে থাকে এবং মাসিক চাকরির রিপোর্টের ওপর বিশ্লেষণ তৈরি করে। ব্যাংকরেট ডটকম-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মার্ক হ্যামরিক বলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস যেসব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তাতে আরও সময় লাগবে।
তিনি বলেন, কর হ্রাস এবং সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের যে সম্ভাব্য সুবিধা পাওয়া যাবে তাতে আরও বেশ কযেক মাস সময় লেগে যাবে। কর্মসংস্থান সম্পর্কিত শুক্রবারের রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট ওবামা নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে একটি হৃষ্টপুষ্ট শ্রমবাজার হস্তান্তর করে গেছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মাসিক কর্মসংস্থানের রিপোর্টে বেকারত্বের যে হার দেখানো হতো সেটিকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রদর্শিত এই হারের চেয়ে বেকারত্বের পরিমাণ অনেক বেশি হবে বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে পিএনসির ডেপুটি চিপ ইকোনোমিস্ট গাস ফশের বলেন, চাকরির বাজারে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা প্রভাব রাখতে পেরেছে সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। চলতি বছরের মাঝামাঝি গিয়ে আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারবো ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতি শ্রমবাজার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখায়। উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক কৌশল কী হতে পারে সেটা নির্ধারণের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবারেই দেশের শীর্ষস্থানীয় সিইওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
জেড





