অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে কিশোরদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। ইতিমধ্যে ‘ফোর কর্নার’ নামে এক প্রোগ্রামে এমন নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে।
তাতে দেখা যায়, টিনেজ অপরাধীদের নগ্ন করে ফেলা হয়েছে। তাদেরকে নানা কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছে। মুখের ভিতর কাপড় গুঁজে দেয়। এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬ টি বালক। তাদের একজনকে একটি মেকানিক্যাল চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় তার পা, হাত চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা। মুখে ‘স্পিট হুড’ নামে এক ধরনের মুখোশ পরিয়ে চেয়ারের পিছন দিক থেকে টানা দিয়ে রাখা। কোমরে বেল্ট পরিয়ে তা চেয়ারের সঙ্গে আটকে রাখা। এসব ঘটনা ঘটেছে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে ওই কিশোরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। অন্য একটি বালককে স্থানান্তর করা হয় প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত জেলে। সেখানেই তাকে ওই চেয়ারে বেঁধে রাখা হয় ২ ঘন্টা। এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে তোলপাড় চলছে।
ফলে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল তদন্তের জন্য রয়েল কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।তিনি বলেছেন, অন্য অস্ট্রেলিয়ানদের মতো আমিও এতে গভীরভাবে মর্মাহত, হতাশ।উল্লেখ্য, নর্দান টেরিটোরিতে ডোন ডেল সেন্টার কিশোর সংশোধনাগারে ওই ঘটনা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সেন্টারের অপরাধ তদন্তের জন্য আমরা একটি রয়েল কমিশন গঠন করবো। তদন্ত করা হবে নর্দান টেরিটরি সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে। আমরা এর ভিতরে প্রবেশ করতে চাই যে, সেখানে আসলে কি ঘটেছে।
ওদিকে নর্দান টেরিটোরির মুখ্যমন্ত্রী এডাম গিলস বলেছেন, তিনিও এ ঘটনায় হতাশ, বিরক্ত। তিনিও রয়েল কমিশন গঠনের কথা বলেছেন। তবে তিনি নর্দান টেরিটোরির সংশোধনী কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত স্টাফদের প্রতি পুনর্বার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, তারা একটি চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন কাজ করছেন। অনেক মানুষই এ কাজটি করতে রাজি হয় না। ওদিকে ব্যারিস্টার জন লরেন্স এ ঘটনাকে গুয়ান্তানামো বে বন্দিশিবিরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি ‘ফোর কর্নারস’কে বলেছেন, আমরা এমন সব শিশুকে নিয়ে কথা বলছি যাদেরকে হাতে, পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। হ্যান্ডকাপ পড়ানো হয়। তাদেরকে চেয়ারের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনা এই ২০১৬ সালেই অস্ট্রেলিয়ায় ঘটছে। কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে এমন অশোভন আচরণের বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট গিলিয়ান ট্রিগস। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি রয়েল কমিশন গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দ্রুত তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবেন।
জেড





