মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কম্বোডিয়ার ২ শীর্ষ খেমার রুজ নেতাকে আজীবন কারাবাসের দণ্ড দিয়েছে দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত ট্রাইব্যুনাল। কম্বোডিয়ার মাওবাদী সাবেক শাসক পল পটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই খেমার রুজ নেতা। খবর, বিবিসি ও আল-জাজিরা'র।
দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন নুওন চে (৮৮), যিনি ছিলেন পলপটের ডেপুটি। কম্বোডিয়ার মানুষ তাকে চিনত ‘ব্রাদার টু’ নামে। আর অন্যজন দেশটির তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সাম্ফান (৮৩)।
ব্রাদার ওয়ান নামে পরিচিত পল পট ১৯৯৮ সালে মারা যান। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, বিচারক যখন আদালতে রায় ঘোষণা করছিলেন তখন অভিযুক্ত ২ জনের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
দেশটির মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে খেমার রুজের বিরুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধ অপরাধ এবং মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খেমার রুজের শাসনামালে কম্বোডিয়ায় ১৭ লাখ মানুষ নির্যাতন, প্রাণদণ্ড এবং অনাহারে মারা যান। এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক চর্তুথাংশ।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। নুওন চে'র আইনজীবী সন অরুন সাংবাদিকদের বলেছেন, " রায় এবং দণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব... এটা (দণ্ড) আমার মক্কেলের জন্য অন্যায্য। তিনি এসব অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না বা এগুলোর অনেক কিছুই করেননি।"
রায়ের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর রুপার্ট এব্বোট বলেছেন, খেমার রুজ শাসনামলে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায় বিচারের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষিত রায়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র: বিবিসি আল-জাজিরা।
আদালত চত্বরের চিত্র
আলজাজিরা'র সাংবাদিক রব ম্যাক ব্রাইড ট্রাইবুনাল চত্বর থেকে রিপোর্ট করেছেন। তিনি জানান, যখন রায় পাঠ করা হয় তখন আদালতের বাইরে অবস্থান করছিলেন খেমার রুজের শাসনামলে নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েক ডজন মানুষ। এসময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এদের অনেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেছেন ট্রাইবুনালের রায় শোনার জন্য।
স্বজনদের প্রতিক্রিয়া
ইয়ান শুক (৭৬) খেমার রুজের শাসনামলে তার ২০ জন স্বজনকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার ২ ছেলেও ছিল। রায় শোনার পর তিনি বলেন, " ১৯৭৯ সাল থেকে আমি ন্যায় বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি... আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বার্তাসংস্থা এপি'কে ৭৫ বছর বয়সী সিঅন মম জানান, খেমার রুজের আমলে তার স্বামী ও ৪ সন্তান খাদ্যের অভাবে ক্ষুধায় মারা যায়। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, " আমার মনে ক্ষোভ রয়েছে।"
" নম্পেনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা এখনো স্মরণ করতে পারি, যখন আমি কোনো খাদ্য অথবা পানি ছাড়া রাস্তায় একা হাটতাম" যোগ করেন তিনি।
ঢাকা, ৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





