ভারত-শাসিত কাশ্মীরে উরিতে এক সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এই হামলার ঘটনায় চার হামলাকারীও নিহত হয়েছে।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হামলাটির ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।

ভারতীয় বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় এক সূত্রে জানা যায়, ওই হামলার ঘটনায় আরো অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন। তাদের হেলিকপ্টারে করে রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগরে সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

হামলার পর উরির দোকানপাট সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চারজন ‘ফিদায়িন’ বা আত্মঘাতী আজ ভোর চারটার দিকে ওই সেনাঘাঁটির প্রশাসনিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। ছয় ঘণ্টা ধরে চলা উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে হামলাকারীদের সবাই নিহত হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ মহাসড়কের পাশের ওই ঘাঁটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কয়েকটি সেনাব‌্যারাকে আগুন ধরে গেছে এবং সেখান থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ বিকেলে জরুরি সভা ডেকেছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

২০১৪ সাল থেকে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ ধরনের অপর এক ঘটনায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হয়। ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে ছয় অনুপ্রবেশকারী পাঞ্জাবের উচ্চ নিরাপত্তায় ঘেরা পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ঢুকে গুলি চালায়। তিন দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর সেনা অভিযানে ওই ছয় হামলাকারীও নিহত হয়।

এম এ/কেবি