পাঁচ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে শনিবার জাপান গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের উত্থান ঠেকানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোদী এই সফরে গেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
চীনের উত্থান মোকাবেলায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে জাপানেরও আগ্রহের কমতি নেই। একই উদ্দেশ্যে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাপান।
জানা গেছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে জাপানি বিমান কেনার বিষয় নিয়েও কথা হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর। দেশে হাই স্পিড বুলেট ট্রেন চালুর ব্যাপারে পরিকাঠামোগত সাহায্য চাইতে বিভিন্ন জাপানি সংস্থার সঙ্গেও কথা বলবেন মোদী।
তবে দুই দেশের মধ্যে অসামরিক পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মুখে কুলুপ টোকিওর। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জাপানের পরমাণু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি ভারতের বাজারে ঢুকতে পারবে।
বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের যৌথ উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলেও আশাবাদী জাপানের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দলে রয়েছেন মুকেশ আম্বানি, আজিম প্রেমজিসহ একাধিক শিল্পপতি।
তবে, রাজধানী টোকিওতে না গিয়ে তিনি গেছেন কিয়োটোতে। সেখানেই শনিবার রাতে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এক ডিনারে মিলিত হবেন মোদী। আগামীকাল রবিবার কিয়োটোর ঐতিহাসিক স্থাপনা ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে সফর করবেন মোদী। এর পরদিন সোমবার যাবেন রাজধানী টোকিওতে। সেখানে জাপানের মন্ত্রীসভার সঙ্গে ও এরপর ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
দু'দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। তারা দুজনই ডানপন্থী দল নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। জাপানি প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশকে সামরিক দিক থেকে 'স্বাবলম্বী' করে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জাপান সফরের আগেরদিন অর্থ্যাৎ গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে মোদী বলেন, 'জাপান ভারতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।' তিনি তার এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় বলে আখ্যায়িত করেন। সূত্র: জি নিউজ ও এনডিটিভি
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





