দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার অনুসারীরা দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা-লুটপাট শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার ২৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়।

এ দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নওশিভিয়ে মাপিসা বলেছেন, সহিংসতা কবলিত ২ প্রদেশে ২৫ হাজার সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করে তিনি আবেদন করেছেন। এ ২ প্রদেশের কাওয়াজুল-নাটালে ডারবান ও গাউটেংয়ে জোহানেসবার্গের মতো বাণিজ্যিক রাজধানী অবস্থিত।

জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর আত্মসমর্পণের জন্য ৬ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনি নিজেকে পুলিশে সোপর্দ করার পর কয়েক দিনের মধ্যে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয় দ. আফ্রিকায়।

দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭২ জন নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৭০০ এর বেশি। শত শত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগ করে তা লুট করে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ১০ জন পদদলিত হয়ে মারা যায়। বিবিসির ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ডারবানে একটি ভবনের নিচতলার দোকানে লুটপাটের পর তাতে আগুন লেগে গেলে ১ নারী নিজের সন্তানকে বাঁচাতে তাকে নিচে ছুঁড়ে দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ শেষ হওয়ার আগে ১৯৯০ এর দশকের পর তিনি এই ধরনের জঘন্য সহিংসতা দেখেননি। নাগরিক সমাজ বিক্ষোভ ঠেকাতে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী তৈরি করে জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রেসিডেন্ট রামাফোসা খাদ্যসংকট সামলানোর জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৪ জুলাই) কমপক্ষে ২০৮টি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

যদিও এদিন দেশটির সরকার সেনার সংখ্যা দ্বিগুণ করে ৫ হাজার সেনা মোতায়েন করার কথা জানিয়েছিল। তথ্যসূত্র: বিবিসি।

এইচএন