স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
বিশেষ এই মর্যাদা প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যে পিটিশন করা হয়েছে তার শুনানি হবে আজ (১৩ আগস্ট) মঙ্গলবার।
কংগ্রেসকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা পিটিশনটি করেছিলেন। মামলার শুনানি হবে তিন বিচারপতির বেঞ্চে। বিচারপতিরা হলেন অরুণ মিশ্র, এম আর শাহ ও অজয় রাস্তোগী।
এছাড়া কাশ্মীর টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন অন্য একটি মামলাও দায়ের করেছেন। আলোচিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কাশ্মীরে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে ওই মামলায়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সে মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বলা হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুনাওয়ালা জানান, তিনি ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে কোনো মতামত দিচ্ছেন না, কিন্তু কাশ্মীরে জারি করা কারফিউ বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার চাইছেন। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে যেভাবে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও টিভি নিউজ চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে, সে নির্দেশ তুলে নেওয়া হোক, এটাই চাইছেন পুনাওয়ালা।
এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিক, এমনটাই বলা হয়েছে পুনাওয়ালার আবেদনে।
পুনাওয়ালার দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে তা সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
গত ৫ আগস্ট ভারতের সংসদে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। এজন্য ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিপুল সংখ্যক বাড়তি সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ও কাশ্মীরিদের জনজীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ভারত।
এমবি





