প্রায় ৫০ বছরের সেনাশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আজ পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এতে মিয়ানমার নতুন গণতান্ত্রিক যুগে সূচনা শুরু করল। খবর: বিবিসি।

মিয়ানমারের অবিসংবাদিত নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) গত নভেম্বরের নির্বাচনে ৮০% আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

কিন্তু মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত এবং তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব দিতে হবে।

পার্লামেন্টের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা যিনি দেশ পরিচালনা করবেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এ বছর মার্চ মাসের শেষে পদত্যাগ করবেন।

এদিকে, দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দী থাকা সুচির রাষ্ট্রপতি হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে। সুচির সন্তানেরা বার্মিজ নাগরিক না হয়ে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেননা। অবশ্য তিনি নির্বাচনের পরে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তিনিই হবেন অলিখিত সরকার প্রধান।

মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হতে পারেন তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা চলছে। সুচির ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম বলেছে, সম্ভবত সুচির ব্যক্তিগত ডাক্তার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

সোমবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন যিনি পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষের স্পিকার মনোনীত করবেন।

১৯৬৮ সালে তৎকালীন গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পরে আবারো গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসছে মিয়ানমার। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের এপ্রিলে গণতান্ত্রিক সরকার সুচির নেতৃত্বে তাদের যাত্রা শুরু করবে।

এমকে