ক্রমান্বয়ে পদত্যাগের সারি বাড়ছে এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী নীতির প্রতিবাদেই এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ (এএপিআই) বিষয়ক তার উপদেষ্টা কমিশনের ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদও। মূলত অভিবাসন, শরণার্থী ও সাত মুসলিম দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নীতির কারণেই পদত্যাগ করেন তারা।

এদিকে গণমাধ্যমের প্রতি আক্রমণের সুর আরও চড়া করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এবার গণমাধ্যমগুলোকে মার্কিনিদের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ কথা বলেছেন। ট্রাম্প টুইটার বার্তায় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন।

খবরে বলা হয়, এএপিআই বিষয়ক উপদেষ্টা কমিশনের ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে যৌথ এক চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেন তারা। ট্রাম্পের কাছে লেখা চিঠিতে ১০ সদস্য বলেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আমরা এমন একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে চাই না, যার প্রণীত নীতি আমাদের নীতি, লক্ষ্য ও দায়িত্বের সঙ্গে বিপরীতমুখী।’

বর্তমানে ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র নীনা মার্কিন অভিবাসী সমাজে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘ভুয়া নিউজ মিডিয়া নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ, এবিসি, সিবিএস, সিএনএন আমার শত্রু নয়, তারা আমেরিকার জনগণের দুশমন।’

এর আগে ট্রাম্প আরেকটি টুইট করে তা দ্রুত আবার মুছে ফেলেন। পরে সংশোধিত টুইটে ট্রাম্প এবিসি ও সিবিএসের নাম দুটো যোগ করেন। উভয় টুইট বার্তায় গণমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া প্রতিষ্ঠানের’ উপাধি দেন। তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমের কথা তার টুইটে বলছেন সেগুলো ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পদক্ষেপ প্রতিবেদন করে প্রেসিডেন্টের বিরাগভাজন হয়েছে।

এর আগেও নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, এনসিবিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমকে টার্গেট করে টুইট বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই এই সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর ক্ষেপে রয়েছেন তিনি।

এনবিসি নিউজের প্রেসিডেন্সিয়াল হিস্টোরিয়ান মাইকেল বেস্কোলস বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ওয়াটারগেট কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর নিক্সন বলেছিলেন, এই সংবাদপত্রগুলোই মূল শত্রু, প্রতিষ্ঠানগুলোও শত্রু, অধ্যাপকরাও দেশের শত্রু।’


জেড