কাটছে না কোন ধোয়াশা বরং বাড়ছে আরও সন্দেহ। ইরানি মিডিয়ার বরাত দিয়ে রাশিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মৃত্যুর খবর।

গত এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ থেকে সরাসরি কোন মিডিয়া ফুটেজে দেখা যায় নি সৌদি এই যুবরাজকে। ঠিক ২১ তারিখ সৌদি রাজপ্রাসাদে হামলার ঘটনা ঘটে। তাই অনেকে মনে করছেন সৌদি যুবরাজ ঐই হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের কাইহান পত্রিকাতো বলেই দিল যুবরাজের গায়ে কয়টি বুলেট আঘাত হানে।

যাইহোক সন্দেহের রেশটা এখনো কাটেনি এই জন্য কারণ ইরান এবং সৌদি আরবের সম্পর্কে ভাটা পড়েছে অনেক আগ থেকে। একে অন্যকে সহ্য করা এখন অনেক কষ্টকর। তাই সৌদি যুবরাজের ২১ এপ্রিল থেকে মিডিয়ার সামনে অনুপস্থিতি থাকার বিষয়কে সুযোগ মনে করে কাজে লাগাচ্ছে ইরান। আবার ইরানের এই গুজবের সঠিক জবাবও এখন পর্যন্ত দিতে পারে নাই সৌদি আরব। দুই দিকে সন্দেহের তীর আছে। প্রশ্ন এখন কোন জায়গায় লাগবে তীর?

সালমানে সম্ভাব্য মৃত্যু নিয়ে যে সংবাদগুলো প্রকাশ হলো :

ইরানের কাইহান পত্রিকা ‘আরব রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তার’ বরাত দিয়ে দাবি করছে, সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ বিন সালমানের শরীরে দু'টি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল এর ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ বিন সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে যুবরাজ বিন সালমানকে প্রায়ই দেখা যায়; কিন্তু রিয়াদে ওই গোলাগুলির পর মাস খানেক তাকে আর গণমাধ্যম দেখা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় যুবরাজ বিন সালমানের এমন অনুপস্থিতি তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান টুডের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘জনগণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে শত্রুপক্ষ এ প্রচার চালিয়েছে।’

গত ২৭ এপ্রিল তোলা একটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘২১ এপ্রিল যদি কোনো হামলা হয়ে থাকত, তাহলে ২৭ এপ্রিল এই অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া এটি কীভাবে সম্ভব? তাই এই মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করলাম।’ ছবিতে দেখা যাচ্ছে চেয়ারে বসে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন বিন সালমান।

এছাড়া আরেকটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে টুইটারে যাতে দেখা যাচ্ছে আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নায়হান, বাহরাইনের বাদশা বিন ইসা ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সাথে বিন সালমানকে। গত শুক্রবার ছবিটি পোস্ট করেছেন যুবরাজের ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকার। তিনি লিখেছেন, কয়েক দিন আগে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি এক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন।

তারপর আরেকটি ছবি প্রকাশ করা হয় যেখানে দেখা যায় সৌদি আরবের কিদ্দিয়া অনুষ্ঠানে তারা অংশগ্রহণ করেন।

যে কারণে মৃত্যুর সংবাদ গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না:

১/বিন সালমান প্রায়শ মিডিয়াতে তার সরব উপস্থিতি জানান দেন। এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে সৌদি আরব সফরে গেলে তখন যুবরাজ বিন সালমানকে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। কয়েকদিন আগে আমেরিকাতে গিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের সাথে দেখা করে আসলো সালমান। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে এলে তার সাথে কেন সালমান দেখা করবে না?

২/ মোহাম্মদ বিল সালমানের মৃত্যুর সংবাদ গুজব জানিয়ে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয় নি।

৩/ যে ছবিগুলো ছাড়া হয়েছে এগুলো স্থির ছবি। এতো বড় গুজবের বিপরীতে কেন শুধু স্থির ছবি প্রকাশ করতে হবে। কারণ বর্তমান প্রযুক্তিতে স্থির ছবি এডিট করা যায়। যেটা প্রমাণ হিসেবে খুব দুর্বল।

৪/যুবরাজের ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকার একটি ছবি প্রকাশ করেন যেখানে বাহরাইনের বাদশা, মিসরের সিসি ও আবু ধাবির যুবরাজসহ সালমানকে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন এই ছবিটি সম্প্রতি তোলা। কিন্তু কোন নির্দিষ্ট তারিখ কেন উল্লেখ করেন নাই?

৫/ যদি সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর সংবাদ গুজব হয় তাহলে তাকে সরাসরি মিডিয়ার সামনে এখনো পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয় নি কেন?

উল্লেখ্য, গত বছর জুন মাসে নিজের চাচাতো ভাইকে যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে দিলে আলোচনায় আসেন ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান। এর পর থেকেই রক্ষণশীল সৌদি আরবে অথনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে দুনীর্তিবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসেন। দেশের তরুণ সমাজের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

দুনীর্তিবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। এরমধ্যে রয়েছে প্রিন্স,বতমান ও সাবেক মন্ত্রী ও ধনকুবের ব্যবসায়ী।আবার প্রতিবেশি ইয়েমেনে হামলা ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করার কারণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

 

জেড