ভালো চাকরির প্রলোভনে ভারতে গিয়ে আটক ৪৮ বাংলাদেশী নারীকে দুই বছর পর সোমবার সন্ধ্যায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান তাদের গ্রহণ করেন।
এ সময় রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক, ভারতীয় বিএসএফ, চেকপোস্ট বিজিবি ও পোর্ট থানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা নারীদের মধ্যে রয়েছে যশোরের ৯ জন, নড়াইলের ১০ জন, গাজীপুরের চারজন, সাতক্ষীরার ছয়জন, পিরোজপুরের তিনজন, রাজবাড়ীর দুজন, গোপালগঞ্জের দুজন, বাগেরহাটের দুজন, খুলনার দুজন, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, কক্সবাজার, মাদারীপুর, রংপুর, চুয়াডাঙ্গা ও মানিকগঞ্জ জেলার একজন করে।
মুম্বাইভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা রেসকিউ ফাউন্ডেশন ও যশোরের মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের প্রচেষ্টায় এসব নারী দেশে ফিরে এসেছেন। ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরিরত অবস্থায় সহকর্মী পাচারকারীর প্রলোভনে পড়ে বেশি বেতনে চাকরির আশায় এসব নারী সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পাচারকারীরা তাদের অসম্মানজনক কাজে ব্যবহার করে। পরে রেসকিউ ফাউন্ডেশন তাদের উদ্ধার করে প্রায় এক বছর শেল্টারহোমে রাখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাচার হওয়া নারীদের মুম্বাই থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার দুপুরে বেনাপোলের চেকপোস্টের বিপরীতে পেট্রাপোল চেকপোস্টে পৌঁছান তারা ও যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেন সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে। রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সুপারিনটেনডেন্ট লীনা জাভেদের তত্ত্বাবধানে মুম্বাই পুলিশের ১০ সদস্য তাদের প্রহরা দিয়ে নিয়ে আসেন।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক জানান, রেসকিউ ফাউন্ডেশন থেকে চিঠি পাওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে পাচারের শিকার নারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য হোম ইনভেসটিগেশন করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়। যার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ৪৮ বাংলাদেশী নারী ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি প্রদান করে। তিন থেকে ছয় মাস আগে অনুমতি পেলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাজ দেরি হওয়ায় তাদের ফিরে আসতে একটু সময় বেশি লেগেছে।
বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক আরও জানান, এসব নারীকে বেনাপোল পোর্ট থানায় জিডিইর মাধ্যমে রাইটস যশোরের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের কিছুদিন নিজেদের শেল্টারহোমে রাখার পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এর মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের পক্ষ থেকে পাচারের যে মামলা করা হয়েছে সে বিষয়ে আদালতে ভিকটিমদের জবানবন্দি গ্রহণের পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। রাইটস যশোর এসব মামলা পরিচালনা করছে।
কেএইচ





