বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও টহল জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তারা 'কয়েক দশক ধরে' বিশ্বব্যাপী এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছেন।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৈরি একটি কৃত্রিম দ্বীপের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্য দিয়ে টহল দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি যুদ্ধজাহাজ।
দক্ষিণ চীন সাগরের ওই এলাকাটি নিজেদের বলে দাবি করে চীন। সেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দেয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে।
ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নৌ কমান্ডাররা অনলাইনে নিজেদের মধ্যে কথাও বলেছেন।
চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'উসকানি মূলক কার্যক্রম' বন্ধ না করলে ছোট্ট কোনো দুর্ঘটনাই দক্ষিণ চীন সাগরে সংঘর্ষ উসকে দিতে পারে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কমান্ডার হ্যারি হ্যারিস বেইজিংয়ের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেন, "আমরা কয়েক দশক ধরে বিশ্বের সর্বত্র স্বাধীন নৌটহল পরিচালনা করছি। তাই আমাদের টহল জাহাজ দেখে কারও বিস্মিত হওয়া উচিত হবে না।"
"আমাদের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন মেনে যেকোনো সময় আকাশ ও নৌ টহল পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। দক্ষিণ চীন সাগরও এর ব্যতিক্রম নয় এবং ভবিষ্যতেও ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হবে না।"
এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, "তিন মাসে অন্তত দুই বার এ ধরনের টহল দেয়া হবে।"
২০১৪ সালে দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্যার্টলি দ্বীপমালার সুবি ও মিসচিফ শৈলশ্রেণী দুটিতে বালু ফেলে একটি দ্বীপ তৈরি করে চীন। কৃত্রিম এ দ্বীপর চারদিকের ১২ নটিক্যাল মাইল এলাকাকে চীন তার জলসীমা বলে দাবি করছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের এ এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্র-বাণিজ্যপথগুলোর অন্যতম।
গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকাটির ওপর চীনের একচ্ছত্র মালিকানার দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমআর





