তুরস্কের রাজধানী আনকারা ও ইস্তাম্বুল আজ (সোমাবার) আবারও আতঙ্কের নগরিতে পরিণত হয়। শুধু আংকারা কিংবা ইস্তাম্বুলেই নয়, যে কোন শহরে যে কোন সময় আবারও অভুত্থানের চেষ্টা হতে পারে এমন আতঙ্ক ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে দেশটির প্রতিটি শহরে।
আজ (১৮ জুলাই) দুপুরে আংকারা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মেলিহ গোকচেক টুইটার একাউন্টে ‘এতিমসুুততা হারেকেতলেনমে ভার’ লিখে একটি পোস্ট করেন। টুইটে তিনি উল্লেখ করেন “ এখনই, দ্রুত সবাই কিজিলাই ময়দানে একত্রিত হও। আনকারার এতিমসুতে বিদ্রোহীরা আবারো চেষ্টা করছে। গনতন্ত্রের নায়কেরা দায়িত্ব কাঁধে নাও..”।
পরবর্তীতে দুটি টেলিভিশন চ্যানেলেও তিনি এমন বক্তব্য ও আশংকা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পরপরই জনগণ সেনাদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ‘কমান্ড ট্রেইনিং ডিভিশন’ এবং ‘আংকারা জিরলি বিরলিকলে’র ওকুলের সামনে দ্রুত বেগে ছুটে আসতে থাকে। ভেতর থেকে যাতে কোন ট্যাংক বের হতে না পেরে সে জন্য তারা সেখানে প্রধান গেটের সামনে ট্রাক দিয়ে অবরোধ করে রাখে।
এদিকে ইসতাম্বুলের হাবিবলেরে অবস্থিত ‘শহীদ পিয়াদে উজমান চাভুশ আহমত ওযতুর্ক’ ব্যারাকের সামনে জড়ো হয়ে একই কায়দায় অসংখ্য ট্রাক দিয়ে অবরোধ স্থাপন করে মুহুর্মুহু সেনা ক্যু বিরোধী ও গণতন্ত্রের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে জনগণ। ইস্তাম্বুলেও আবার বিদ্রোহীরা কিছু একটা করতে পারে এমন আশংকা থেকে তারা এমনটি করেন।
আসলে তুরস্কের প্রতিটি শহরেই এমন আতঙ্ক ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ১৫ জুলাই রাতের অভুত্থান ব্যর্থ হলেও ঐ রাতে বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত ২/১ টি বিমান ও ৪০টির বেশী হেলিকপ্টার নিখোজ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে বিক্ষোভে ফেটে পড়া তুরস্কেও প্রতিটি নাগরিকের মনে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে এ এব্যাপারে জনগণকে কিছুইবলা হয়নি। তুরস্কেও কোন মিডিয়াতেই এমন প্রচারের পক্ষে কোন সংবাদ প্রচারিত হয়নি।
তবুও সরকারী দলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, বিদ্রোহীরা আবারো সংগঠিত হয়ে যে কোন সময় আবারও অভুত্থান চেষ্টা চালাতে পারে। সরকার ও মিডিয়া কৌশলের অংশ হিসেবে এ সত্য প্রকাশ করছে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহের সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত এমন সব ব্যক্তিদের চিহিৃতকরণ ও আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তুরস্কের ইতিহাসে এর আগে সংগঠিত তিনটি সেনা অভ্যুত্থানই পুরোপুরি সফল হলেও এবারের সেনা অভ্যুত্থানে সফল হতে পারেনি অভ্যুত্থান প্রয়াসী বিদ্রোহীরা।
এদিকে গণতন্ত্রবিরোধী এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নেয়া জনতা আজ চতুর্থ দিনের মত বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। প্রথম দু’দিন রাত দিন ২৪ ঘন্টা অবস্থান নিলেও গতকাল থেকে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
কেবি





