সম্মেলন উপলক্ষে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে নয়াদিল্লিকে। নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে নামানো হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। নিরাপত্তার খাতিরে রয়েছে ড্রোন–বিরোধী ব্যবস্থা। দিল্লির বানরের দলগুলোকে ঠেকাতেও নেওয়া হয়েছে অভিনব সব কৌশল। খবর এনডিটিভির

এবারের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন-২০২৩ যে থিমের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা হলো বসুধৈব কুটুম্বকম (এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ)। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীবসহ সব জীবনের মূল্য ও পৃথিবী ও বিস্তৃত গ্রহে তাদের আন্তঃসম্পর্ককে কেন্দ্র করে এজেন্ডটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি উদ্বোধন করা ‘ভারত মণ্ডপমে’ ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এ শীর্ষ সম্মেলনে ৩০ জনের বেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি দেশ ও ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: জি-২০ সম্মেলন শুরু আজ, ভারতে হাজির বিশ্ব

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে (ভারত মন্ডপ) হাজির হওয়া শুরু করেন বিশ্বনেতারা। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় ১১টায়)। ‘এক পৃথিবী’ (ওয়ান আর্থ) শীর্ষক এই অধিবেশনে জলবায়ু কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার উপর জোর দেওয়া হবে।

‘ওয়ান আর্থ’ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন রয়েছে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে ‘এক পরিবার’ শীর্ষক আরেকটি অধিবেশন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দেওয়া নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যস্ততার কারণে থাকতে পারছেন না তিনি। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় গ্রেপ্তার এড়াতে জি২০ সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধের যুদ্ধাপরাধ সংগঠিতের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের পরোয়ানা জারি রয়েছে।

অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর থেকে কোনো জি২০ সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকেননি। শি জিনপিংয়ের না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আর ভারত এটিকে অবজ্ঞা হিসেবেই দেখছে।

চীন ও রাশিয়া এরই মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে একে অপরের শক্তিশালী মিত্র হিসেবে কাজ করছে। শুধু রাজনীতি নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর কড়া কড়া সব পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে গত বছর দুটি দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বেড়ে গেছে ৩০ শতাংশ।

ভারতের জি২০ সভাপতিত্ব ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল। দেশটির মেয়াদকালীন বাংলাদেশসহ সদস্য নয় এমন ৯টি দেশকে জি২০ সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানায় ভারত। দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, মিসর, মরিশাস, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এনএইচ