মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের টুইটার একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে তার ফেসবুক একাউন্ট ব্যান করে দিয়েছিল ফেসবুক।

ইন্টারনেটে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে এবার তার টুইটার একাউন্টও ব্যান করা হয়েছে। এই খবর দিয়েছে আরএফএ।  

মিন অং হ্লাইং’কে বলা হয়ে থাকে ২০১৭ সালে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা গণহত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী। ওই ঘটনার পরই প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

টুইটারে থাকা তার @sgminaunghlaing নামের একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ৯ মাস আগে আরেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ফেসবুকও মিন অং কে ব্যান করেছিল। তার বিরুদ্ধে ফেসবুক মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জাতিগুলোর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছিল।

এর আগে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টুইটারের পরিচালকদের কাছে মিন অং’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাতে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাবাচক কথা বলার অভিযোগ আনেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই মিন অং’র টুইটার ব্যান করা হয়।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন’র প্রধান তুন খিন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফেসবুকের মত টুইটারও মিন অং হ্লাইং’র একাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে। এটি রোহিঙ্গাদের জন্য বিশাল জয়।

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী এই মিন অং হ্লাইং।

টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মুখপাত্র জানায়, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা কোনো নির্দিষ্ট ব্যাক্তির বিষয়ে কথা বলতে পারি না। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১১ লাখ।

এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।

এমবি