গত সপ্তাহে ভারতের অনাথ শিশুদের এক আবাসিক বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দক্ষিণ গোয়ার রিভোনা গ্রামের এই স্কুলের নাম নিত্যসেবা নিকেতন। অন্য শিক্ষার্থীদের বাবা-মা’দের প্রতিবাদের মুখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়। এইচআইভি আক্রান্ত নয়, এমন আরও ২৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়।

৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী বহিষ্কৃত শিশুদের উত্তর গোয়ার একটি বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর দিয়েছে। একটি খ্রিস্টান চার্চ নিত্যসেবা নিকেতন পরিচালনা করে। সেই চার্চের দায়িত্বে থাকা সিস্টার আলফোনসা পোরাথুর জানান, এইচআইভি পজিটিভ শিক্ষার্থীদের গত বছরই আওয়ার লেডি অব ফাতিমা হাই স্কুলে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তারা কেউই ক্লাসে অংশ নিতো না।

তাদের পড়াশোনার ব্যাপারটি ঘরেই করানো হতো, তারা পরীক্ষা ও মার্কশিট তুলতেই কেবল বিদ্যালয়ে হাজির হতো। তবে এরপর তাদেরকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করলেও সেই স্কুলেও বেশ কিছু অভিভাবকের আপত্তির মুখে পড়ে তারা। পোরাথুর বলেন, এরপর আমরা আমাদের চার্চের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করি এবং সিদ্ধান্ত নিই যে, এই ১৩ শিশুকে উত্তর গোয়ার একটি বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হবে। আমরা সেই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বাকি ২৩ জন নন-এইচআইভি শিশু আওয়ার লেডি অব ফাতিমা হাই স্কুলেই থাকবে, যেটি আবাসিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে। কিন্তু সে সব শিশু ক্লাসে অংশ নিলে অন্য শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা প্রতিবাদ করে বলেন, তাদেরও বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এমনকি ৪ শিক্ষার্থীর পিতামাতা চান, সেই ২৩ জন শিক্ষার্থীর ওয়ার্ডই যেন বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেয়া হয়!

তবে যোগাযোগ করা হলে, সেসব পরিবার কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আওয়ার লেডি অব ফাতিমা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাদার জেরি ভাজ বলেন, আমরা এমন এক অবস্থায় আছি যে, আমাদের আইনও অনুসরণ করতে হয়, আবার শিক্ষার্থী ও তাদের পিতা-মাতার উদ্বেগের বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হয়। যা-ই হোক, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা সেই ২৩ শিশুকে বহিষ্কার করবো না।

আর্কডিওসিসান বোর্ড অব এডুকেশন-এর কর্মকর্তা ফাদার ম্যাভেরিক ফার্নান্দেজ বলেন, আমরা সে সব অবিভাবকের ভয় দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ব্যাখ্যা করেছি যে, সে সব শিশুর ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আমরা এই সমপর্কিত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাপারেও তাদের বলেছি। তবুও আমরা ১৩ জন শিক্ষার্থীকে অন্য স্কুলে স্থানান্তর করেছি। বিজেপির স্থানীয় এমএলএ সুভাষ পাল দেশাই বলেন, শিশু অধিকার রক্ষায় এখন  শিক্ষা বিভাগ ও রাজ্য কমিশনের উচিত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া।

আমি এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবো। কারণ এই ধরনের ঘটনা কখনওই হওয়া উচিত নয়। অনেক পিতা-মাতা আমাদের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা চাইছেন, তাদের শিশুরা ভবিষ্যতে কখনওই এইচআইভি আক্রান্ত হবে না! এটা সমপূর্ণ অযৌক্তিক দাবি। গোয়া শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অনিল পাওয়ার বলেছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে কোন বিদ্যালয় যাতে এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে আপত্তি না জানায়, সে সমপর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া।

অন্যান্য শিশুদের অভিভাবকদেরকে প্রতিবাদ করা থেকে তারা বিরত রাখতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। গোয়া শিশু অধিকার বিষয়ক রাজ্য কমিশন বলেছে, আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের ডেকেছি। আমরা গ্রামে গ্রামে পঞ্চায়েত দিয়ে এই ব্যাপারে শুনানিও করিয়েছি। আমরা নিশ্চিত করেছি যে, ২৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হবে না।

আমরা রাজ্য সরকারকে এখন একটি প্রতিবেদন দেবো যে, এই ধরনের ভুল যাতে আর না হয়। বিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই এইচআইভি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। প্রতিবাদ হলেও, যাতে তাদের ভর্তি করা হয়। গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি আদেশে বলেছে, এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না কোন বিদ্যালয়।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ