অব্যাহত চারদিক থেকে আসা নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার ৬০ হাজার শিশু দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এমনই আশঙ্কার কথা জানায় সংস্থাটি।
কিমের পারমাণবিক বোমা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা এবং তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশের নিষেধাজ্ঞা এই আশঙ্কাকে আরো ঘনীভূত করছে বলেও জানান সংস্থাটি।
গত এক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার ৯টি প্রতিষ্ঠান, ১৬ জন নাগরিক ও ৬টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনায় নিষেধাজ্ঞার ভিতরে মানবিক সহায়তা বন্ধ না থাকার কথা থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে জানায় ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ওমর আবদি।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ায় সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সহায়তা পৌঁছানোর জাহাজগুলো সে দেশে প্রবেশের ঝুঁকি নিতে চায় না। নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে প্রবেশের ক্ষেত্রে তারা অনীহা প্রকাশ করে। তাদের শিফিং লাইনের সিস্টেম বেশি নাই পাশাপাশি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাতায়াত খরচ বেশি পড়ে যায়।
ইউনিসেফের পরিচালক ম্যানুয়েল ফনটেইন বলেন, আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে এই বছরে উত্তর কোরিয়ার ৬০ হাজার শিশু দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। যার কারণে অনেক মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সুতারাং এটি এখন থেকে ভাবার বিষয় এবং কোনভাবেই দেশের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে নয়।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ায় ইউনিসেফের পক্ষ থেকে পুষ্টি, সাস্থ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ১৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের কাজ করছে সংস্থাটি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের রুটগুলোতে বাধা, এন্ট্রি পোর্টগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী পরিত্যাগে বিলম্ব, সরবরাহকারীদের সুরক্ষার অসুবিধা এবং জ্বালানি মূল্য ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি।
জেড





