রাশিয়া নতুন এক দানবীয় শক্তিধর সাবমেরিন তৈরি করেছে। ‘বোরেই-২’ শ্রেণীর এই সাবমেরিনটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
নাম ‘দ্য নিয়াজ ভ্লাদিমির’ বা ‘প্রিন্স ভ্লাদিমির’। এ সাবমেরিনটিকে কোনো ধরনের রাডারও চিহ্নিত করতে পারবে না।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা জানায়, ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৮টি এই শ্রেণীর সাবমেরিন তৈরি করবে রাশিয়া। প্রায় ৬ হাজার মাইল (৯,৩০০ কিলোমিটার) দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুকে এক নিমেষে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে প্রিন্স ভ্লাদিমিরের রক্ষিত পরমাণু অস্ত্রের। এছাড়া একই সঙ্গে ২০টি পরমাণু অস্ত্র ছুড়ে লক্ষ্যবস্তুকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে এটি।
রাডারের চোখ এড়িয়ে সমুদ্রের ৪০০ মিটার গভীরেও অবাধে চলতে পারে এই সামুদ্রিক দানব। উত্তর রাশিয়ার সেভম্যাশ শিপইয়ার্ডে এই সাবমেরিন তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। গত ১৭ নভেম্বর ওই শিপইয়ার্ড থেকে সাবমেরিনটি পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্রে ভাসানো হয়।
আগামী বছরেই এটি রুশ সেনার হাতে তুলে দেয়া হবে জানা গেছে। সবমিলিয়ে ৯৬ থেকে ২০০টি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারবে রাশিয়ার নতুন এ ডুবোজাহাজ। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা মার্কিন আণবিক বোমার চেয়েও দশ গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিমত্তা ও ভয়াবহতার দিক থেকে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু সাবমেরিন।
রাশিয়ার সর্বশেষ বোরেই সাবমেরিনে ছিল ১৬টি মিসাইল টিউব। নতুন সংস্করণে আরও চারটি অতিরিক্ত টিউব যোগ করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার পর একে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল ‘বুলাভা আরএসএম৫৬’ দ্বারা সজ্জিত করা হবে। এ মিসাইল ৬ হাজার মাইল দূরের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বুলাভা হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ‘গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম’ (ম্যান্যুয়েভারেবল) মিসাইল।
সমরশক্তিতে আরেক মহারথী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ‘ওহাইও ক্লাস’ সাবমেরিন অবশ্য একত্রে ২৪টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু এর সর্বোচ্চ পাল্লা ৪,৮৪৬ মাইল।
এছাড়া প্রিন্স ভ্লাদিমিরের মতো সমুদ্রের ৪০০ মিটার গভীরে ডুব দিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম নয় ‘ওহাইও ক্লাস’। ডেইলি মেইল।
জেড





