গুয়ানতানামোর বন্দীদের নির্যাতনের বিভিন্ন ভয়াল উপায়ের কথা প্রায়ই গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। কিন্তু অন্য রকম এক নির্যাতনের কথা ফাঁস করেছেন স্বয়ং ওই বন্দী শিবিরেরই সাবেক এক বন্দী।

গুয়ানতানামোর বন্দীরা সবাই মুসলিম বন্দী এটা সবারই জানা। সাধারণত ইরাক, আফগানিস্তানের বন্দী এবং আল কায়েদা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় পৃথিবীর এই 'জাহান্নামে'। সেখানে নিয়ে চালানো হয় বিভিন্ন কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন।

মোহাম্মাদু আওলাদ সালেহি এরকই একজন বন্দী। ১৯৯০ সালে রাশিয়ার আফগান আগ্রাসনের সময় যোগ দেন আল কায়েদায়। এরপর ২০০১ সালে আফগানিস্তানে শুরু হয় মার্কিন আগ্রাসন। ২০০২ সালে মার্কিন বাহিনী সালেহিকে আফগানিস্তান থেকে আটক করে গুয়ানতানামোতে বন্দী করে রাখে।

কারাগারে বসেই তিনি লিখেছেন তার ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনাবলী। এর মধ্যে বিভিন্ন নির্যাতনের পাশাপাশি রয়েছে 'গ্রেট আমেরিকান সেক্স' নামের এক অভিনব নির্যাতন। মার্কিন নির্যাতন প্রশিক্ষিত নির্যাতনকারীরা জানেন, গুয়ানতানামোর মুসলিম বন্দীরা সাধারণত ধার্মিক হন। তাই তাদের চরিত্র ও ধর্মীয় দর্শনকে কলুষিত করার জন্য এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করে মার্কিন বাহিনী।

সালেহির বর্ণনামতে, মার্কিন সেনাবাহিনীর নারী তদন্তকারীরা তার রুমে গিয়ে বলতেন 'তোমাকে এখন গ্রেট আমেরিকান সেক্সের শিক্ষা দেয়া হবে।' এটি বলে তার সঙ্গে জোরপূর্বক সেক্স করতেন এসব নারী তদন্তকারী। তার সঙ্গে এরকম তিন জন নারী তদন্তকারী জোরপূর্বক সেক্স করেছেন বলে তিনি তার বর্ণনায় উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ওই নারী তদন্তকারীরা কাপড়-চোপড় খুলে পুরো উদ্দাম হয়ে তাকে অশ্লীল ভঙ্গিমায় আহবান করতো এবং বাজে কথা বলতো।

এসব নির্যাতন ছাড়াও অতিরিক্ত নোনা পানি খাওয়ানো, বেধড়ক পিটুনি, অতিরিক্ত ঠান্ডা কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার মতো নির্যাতনেরও উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি

এমএ