অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় আগে আমাজন জঙ্গলে বসবাসকারী একটি গোত্রের সদস্যদের শরীর থেকে মার্কিন গবেষকরা রক্তের যেসব নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইয়ানুমামি গোত্রের কয়েক হাজার মানুষের দেহ থেকে ১৯৬০ এর দশকে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো।

জেনেটিক পরীক্ষাই ছিলো এর মূল কারণ।

এই গোত্রের একজন নেতা বলেছেন, রক্তের এসব নমুনা ফেরত পাওয়ার পর বিশেষ প্রার্থনা শেষে এগুলো সমাহিত করা হবে।

তিনি জানান, নিজেদের শরীরের রক্ত এতো দূরের একটি দেশে এতো বছর ধরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখার ঘটনায় এই গোত্রের অনেকেই ভীতি প্রকাশ করেছেন।

দাবি কোপেনাওয়া নামের এই ব্যক্তি বলেন, "আমার বয়স যখন ১০/১১ তখন নন-ইন্ডিয়ানরা (অ্যামেরিকান বিজ্ঞানী) এখানে এসেছিলেন। আমরা চারটি গ্রামে বসবাস করতাম। সেখানে যেসব মিশনারি ছিলেন তারা আমাদের নেতাদেরকে বলেছিলেন যে রক্ত দিতে হবে।”
পরে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নৃবিজ্ঞানীর কাছে তিনি এসব নমুনার খোঁজ পান।
ইয়ানুমামি গোত্রের একজন প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে তিনি এসব নমুনা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
এজন্যে কয়েক বছর ধরে তাকে দেন দরবার করতে হয়েছে।

পরে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যাদের ফ্রিজে এসব নমুনা সংরক্ষিত ছিলো, তারা ব্রাজিল সরকারের এক প্রস্তাবে এসব নমুনা ওই গোত্রের কাছে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হন।

মি. কোপেনাওয়া বলেন, এসব রক্ত কি কাজে লাগানো হয়েছে সেবিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

“শ্বেতাঙ্গরা আমাদের সাথে চালাকি করেছে যাতে তারা আমাদের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে যেতে পারেন। এই রক্তের মালিক আমাদের লোকজন। তাই এসব ফিরে পাওয়ার অধিকার আমাদের আছে।”

গবেষকদের উদ্দেশ্য ছিলো ইয়ানুমামি গোত্রটি হাজার হাজার বছর আগে বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন কীনা সেটা খুঁজে বের করা।

ইয়ানুমামি গোত্রের রীতি হচ্ছে মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তির শরীরের সবকিছু পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর কোনো কিছুই রেখে দেওয়া যাবে না। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ইআর