ধস থেকে বের হতে পারছে না চীনের শেয়ারবাজার। সোম ও মঙ্গলবার বড় ধরনের ধসের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। বুধবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কম্পোজিট সূচকের পতন হয়েছে ১.১ শতাংশ। ফলে সূচকটি ২৯৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে চীনের শেয়ারবাজারের সূচকের পতন হয়েছে ১৬ শতাংশ। সুত্র-বিবিসি।
চীনের শেয়ারবাজারের পতনের প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ারাবাজারে সোমবার বড় ধরনের পতন ঘটে। বড় ধরনের পতনের কারণে শেয়ারবাজারের জন্য ‘কালো সোমবার’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
তবে সোমবারের বড় ধরনের পতনের পর মঙ্গলবার ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পতন থেকে বের হতে পারেনি চীনের বাজার। সোমবার ৮.৫ শতাংশ পতনের পর মঙ্গলবার আরও ৭.৬ শতাংশ পতন ঘটে সূচকের। ফলে দেশটির সাংহাই কম্পোজিট সূচক নেমে আসে ৩ হাজার পয়েন্টের নিচে।
বাজার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়। ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে সুদের হার ৪.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মূলত শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সুদের হার কমায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের নভেম্বরের পর এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সুদের হার কমাল দেশটি। কিন্তু সুদের হার কমানোর পরও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।
মার্জিন লোন নিয়ে বিনিয়োগের কারণে গত এক বছরে চীনের শেয়ারবাজার ফুলে ফেঁপে উঠে। দেশটির শেয়ারবাজারের সূচক এ সময়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। গত জুন মাসে মার্জিন লোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে শেয়ারবাজারে ধস শুরু হয়। এরপর দেশটির সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েও বাজারের গতি ফেরাতে ব্যর্থ হয়।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির মুদ্রা ইয়েনের মান ডলারের তুলনায় দুই দফায় প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রফতানি আয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। মুদ্রার মান কমে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করে। তাদের আশঙ্কা, আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে ধারণার চেয়ে আরও মন্দ পরিস্থিতি দেখা দেবে।
আর এমনই পরিস্থিতিতে টালমাটাল হয়ে উঠছে দেশটির শেয়ারবাজার।
এএইচ





