ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২১ জনের মতো নিহত হয়। পুরো দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে অন্যতম ভূমিকা পালন করে সোশ্যাল মিড়িয়া অর্থ্যাৎ টুইটার, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ইত্যাদি।
ইরান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দিতে এই সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার হয়েছে বলে ইরানের সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আরটি নিউজ।
গত সপ্তাহে ফেসবুক ও টুইটারে কিছু ছবি ও ভিডিও ছাড়া হয় ইরানের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে, যার পুরোটাই ভুয়া ও ইরানের দেশব্যাপী সহিংসতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথম যে ভুয়া ভিডিও ছাড়ানো হয় সেটি ক্যমব্রি নামের এক ব্যাক্তির টুইটার থেকে আপলোড হয়। সেখানে ক্যাপশনে লেখা ছিল প্রায় ৩ কোটি লোক ইরান সরকারের বিরোধীতায় রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। আপলোডের সাথে সাথে এই ভিডিওটি প্রায় লক্ষাধিকের ওপর লোক দেখে এবং শেয়ার করে।
পরবর্তীতে এ ভিডিওটি ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করে কিছু টুইটার ব্যবহারকারীরা। তারা একই বিক্ষোভের একটি ভিডিও আপলোড করে যেখানে দেখানো হয় ভিডিওটি আসলে ইরানের ছিল না। এটি বাহরাইনের ২০১১ সালের একটি গণপ্রতিবাদের ভিডিও।
ক্যমব্রি প্রকাশিত ভিডিও ভুয়া প্রমাণ করে বাহরাইনের এক টুইটার ব্যবহারকারী বলেন, এটা অবাক করা বিষয় এই ভিডিওটি ইরানের বলে চালিয়ে দেওয়ার কারণে মাত্র দুই ঘন্টায় প্রায় ৫০ হাজার লোক দেখে ফেলে। অথচ এই ভিডিওটি গত ৭ বছরে মাত্র ১৮ হাজার লোক দেখে।
এই ভিডিওটি নিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ইরানের বিক্ষোভের প্রচার করে অথচ যেটা ছিল সম্পূর্ণ ভিক্তিহীন ও ভুয়া।
ভুয়া ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর যে ভুয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তা হলো একটি নারীর ছবি। ছবিতে দেখা যায় একটি হিজাব পরিহিতা নারী পুলিশকে মারধর করছে।
ছবিটা টুইটারে ছাড়ে ইমরান ফিরোজ নামের এক ব্যাক্তি। ছবিতে ক্যাপশনে লেখা ছিল শুধু 'ইরান'। এটি সাথে সাথে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ছবিরও প্রতিবাদ করে কিছু টুইটার ব্যবহারকারীরা। তারা প্রমাণ করে দেয় ছবিটি আসলে ইরানের বিক্ষোভের ছিল না। এটি ছিল ইরানের 'গোল্ড কলার' নামে এক মুভির দৃশ্য। যে দৃশ্যে নারীটি এভাবে অভিনয় করে। ভুয়া ছবি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর ইমরান ফিরোজ বলেন, 'এটি একটি প্রতিকি ছবি'।
ইমরানের এই মন্তব্যের পর অনেকে তাকে নিয়ে টুইটারে উপহাস শুরু করে।
উল্লেখ্য, ইরানে দ্রব্যমূল্যের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংগঠিত হওয়া বিক্ষোভ আসলে দেশব্যাপী কতটুকু মানুষের স্বদিচ্ছাতে ছড়িয়ে পড়েছে এখন সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এই বিক্ষোভে গতকাল (৩ জানুয়ারি) নেতৃত্বদানকারী একজন ইউরোপীয় নাগরিককে গ্রেফতার করার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। আরটি নিউজ
জেড





