বিশ্ব পোলিও দিবসে পোলিও মুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রবক্তারা দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন দেশগুলো একটি নতুন পঞ্চবার্ষিক কৌশলে যোগ দেয়ার অঙ্গীকার করে, যাতে করে এই রোগটি নির্মূল করে সেটিকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে পাঠানো যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যখন ১৯৮৮ সালে বিশ্ব পোলিও নির্মূলকরণ উদ্যোগটি গ্রহণ করে, তখন আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার শিশু পোলিওর কারণে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে, পোলিও শুধুমাত্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেই স্থানীয়ভাবে ছড়ায়। এ বছর এখন পর্যন্ত ২৯টি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যার ফলে একটি পোলিও মুক্ত বিশ্ব গড়ার সম্ভাবনা হাতের নাগালে চলে এসেছে।
ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে যে শেষ এই অংশটুকুই সবচেয়ে কঠিন এবং দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যে তারা যেন সময়ের আগেই হাল ছেড়ে না দেয়। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেডরস আধানম ঘেব্রেয়সাস বলেন, শনাক্ত করা ২৯টি সংক্রমণের মধ্যে অল্প কয়েকটি দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকাতে রয়েছে, যেগুলো পাকিস্তানে সূত্রপাত হওয়া প্রকরণটির সাথে সম্পর্কিত।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, পোলিও নির্মূলের নতুন কৌশলটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে তা বিশ্বকে শেষ লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনাটিতে এমন কিছু কৌশল রয়েছে যা দিয়ে শিশুদের নতুন প্রকরণ ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা যাবে এবং সেগুলো অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যাবে।
যদি লক্ষ্যে পৌঁছনো যায়, তাহলে গুটিবসন্তের পর পোলিওই হবে দ্বিতীয় এমন রোগ যা কিনা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হবে। জাতিসঙ্ঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাগুলো বলছে, এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছতে ৪৮০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে।
তারা এও বলে যে এর অর্থনৈতিক ফায়দাও হবে উল্লেখযোগ্য। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পোলিও নির্মূল করতে পারলে তা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ বাঁচাবে।
এবিএস





