তুরস্কের আইনসভার সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব গণমাধ্যম। নিচে বিভিন্ন পত্রিকা ও সেগুলোর প্রতিবেদনের মূল কথা তুলে ধরা হলো।
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে যে তুর্কিতে এবারের আইন সভার নির্বাচনে দেশটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু কম সংখ্যক ভবিষ্যতবাণী এসেছিল, এই নির্বাচনের ফল সঙ্কেত দিবে যে দেশটিতে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় তাকা 'একে' পার্টির প্রভাব শেষের পথে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ঘোষণা এরদোগান দিয়েছিলেন তা এখন শঙ্কার মধ্যে পড়েছে।
"আল জাজিরা" জানিয়েছে, বর্তমানে ৩১১টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকা একে পার্টি গত ১৩ বছর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশটি শাসন করে আসছিল। কিন্তু সেটি এবার ধরে রাখতে পারেনি।
'এইচডিপি' প্রধান সেলাটিস ডেমিরটাসের উক্তি দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, "যারা কর্তৃত্ববাদী ও ঔদ্ধত তারা হেরেছে। আর যারা স্বাধীনতা ও শান্তিকে ভালোবাসে তারা এই নির্বাচনে জিতেছে।"
সেলাটিস আরো বলেন, "এই রাষ্ট্র একনায়কতন্ত্রকে মেনে নেয়নি এবং নাগরিক ক্যু হয়েছে।"
ইস্তাম্বুল বিলগি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডেনিজ উলকি অ্যারিবোগান আল জাজিরাকে বলেছেন, "এই ফলাফল দেখিয়েছে যে তুর্কি জনগণ এরদোগানকে একজন নিরপেক্ষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে চায়। তারা তাকে একে পার্টির প্রধান হিসেবে চায় না।"
গার্ডিয়ান জানিয়েছে গত চারটি সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে এই প্রথম এরদোগানের সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। 'কুর্দিশ ওবামা' খ্যাত সেলাহাতিন ডেরমিরটাসের নেতৃত্বাধীন দল কোয়ালিশন সরকার গঠন অথবা ছয় সপ্তাহের মধ্যে কোনো দল সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন করে নির্বাচন দিতে বাধ্য করছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, "এটা তুর্কি রাজনীতির পারমানবিক বিষ্ফোরণ।"
জার্মানির ডয়েচ ভেলে লিখেছে তুর্কির ভোটাররা এরদোগানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার সংবিধান পরিবর্তনের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
ইসরাঈলি ইংরেজি দৈনিক হারেজ এরদোগানকে সুলতান এরদোগান হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছে, তার স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
জেডআই





