পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূল নেতা এবং রাজ্য পুলিশের সাবেক ডিজি রজত মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করার পর এই প্রথম সরাসরি শাসক দলের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করল সিবিআই। রজতবাবু তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সহ-সভাপতি। তিনি মাসিক ২০ লাখ রুপি বেতন নিয়ে সারদার একজন উপদেষ্টা হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে রজত মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে তদন্তের স্বার্থে সিবিআই কোলকাতার সল্টলেকের অফিসে জেরা করেন রজত মজুমদারকে। তল্লাশি চালায় তাঁর বাসভবনেও। গতকালও তাঁকে সিবিআই দপ্তরে ডাকা হয়। পরে বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল রজতবাবু, তৃণমূল নেতা আসিফ খান ও কুণালকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরেই রজতবাবু সম্পর্কে বহু তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপরই তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হয়।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রজতবাবু তৃণমূলের বীরভূম জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এক সময় সারদার সঙ্গে শাসক দলের এক শীর্ষনেতার যোগসূত্রের কাজ করতেন রজতবাবু। সিবিআই গোয়েন্দায়ের অভিযোগ- শুধু সারদার আর্থিক লেনদেনই নয়, সুদীপ্ত সেনের প্রতারণা ব্যবসার ছক, তাঁর সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগসাজশ, সুদীপ্তর পালিয়ে যাওয়া- সব কিছুর পেছনেই পরিকল্পনাকারী হিসেবে রজতবাবুর হাত ছিল।
এদিকে, গ্রেফতারের পরেই আচমকা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন রজতবাবু। সল্টলেকের সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এসে তাকে পরীক্ষা করেন। তার বুকের বাঁ দিকে ব্যথা হচ্ছিল বলে তিনি চিকিৎসককে জানান। সন্ধ্যার পরে তাকে নীলরতন সরকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তার ইসিজি করানো হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ইসিজি রিপোর্টে কোনো অস্বাভাবিকতা মেলেনি। পরে রজতবাবুকে কার্ডিওলজি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কিছু পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু তাতেও কিছু মেলেনি। মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা এসে তাকে পরীক্ষা করেন। তারাও কিছু পাননি। কিন্তু রজতবাবু বারবারই বলতে থাকেন, তাঁর বুকের বাঁ দিকে ব্যথা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়।
২০১০ সালের এপ্রিল মাসে রজতবাবু সারদায় যোগ দেন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শদাতা হিসেবে। পরে তদন্তে নেমে সিবিআই সারদার বিভিন্ন নথি ঘেঁটে কখনও তাঁকে সারদা গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, কখনও পরামশর্দাতা, কখনও আবার ডিরেক্টর হিসেবে পেয়েছে। সিবিআই সূত্রের খবর, বিভিন্ন সময়ে সারদার জমি কেনাবেচার সঙ্গে রজতবাবু জড়িত ছিলেন।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





