বিদেশ ভ্রমণে অনৈতিকভাবে সরকারি অর্থব্যয় নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন জাপানের রাজধানী টোকিওর গর্ভনর ইয়চি মাসুজুই।
ব্যাপক সমালোচনা আর বির্তকের পর বুধবার সকালে সংসদে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার টোকিও আসেম্বলিতে হতে যাওয়া অনস্থা ভোটে তিনি হেরে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এর কয়েক ঘন্টা আগেই পদত্যাগ করে অনাস্থা ভোট এড়ান তিনি।
২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকের দায়িত্বে থাকা এই গর্ভনরের পদত্যাগে অলিম্পিক আয়োজনে কোন প্রভাব পড়বে না বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
২০১৪ সালে টোকিওর গর্ভনর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নয়বার বিদেশ ভ্রমণে সরকারি কোষাগারের ২০ কোটি ইয়েন খরচ করেন মাসুজুই।
বিলাস বহুল হোটেলে রাত্রি যাপন, সরকারি অর্থে সন্তানদের কমিক ও চিত্রকালার বই কিনে দেওয়া, উচ্চমূল্যের খাবার গ্রহণ ও গর্ভনরের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কোনো ব্যাখ্যা দিতেও রাজি হননি তিনি।
এতে জনমত তার বিরুদ্ধে চলে যায়। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ করা যায়।
সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন, এপ্রিলে এ বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম অন্যন্য সাংসদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে দাপ্তরিকভাবে বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে তিনি অতিরিক্ত ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিলাসবহুল স্পা, পরিবার নিয়ে ব্যয়বহুল ভ্রমণে যাওয়া ছাড়াও দামী কাপড় কেনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এই নেতা পদত্যাগের পর টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, “কোন নেতা কি দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারে? আর গাড়ি তো আমার ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে কেন কথা হবে?
“আসল বিষয়টি তুচ্ছ। তারপরও যেহেতু বিভিন্ন মহল থেকে পদত্যাগের বিষয়টি তোলা হয়েছে তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানিয়েছি।”
কিন্তু প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ১০ জুলাই জাপানি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচন। মাসুজুই পদত্যাগ না করলে ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের দল এডিপি-র ভরাডুবি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে দলীয় নেতাদের চাপেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।
এফএফ





