ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশে সহিংসতার নিন্দা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সহিংসতা বন্ধে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার দায়িত্ব সবারই রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরাই চলমান সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তবে যদি কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ জন্য তৈরি আছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে কাজ শুরু করার পর এটিই ছিল বার্নিকাটের প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তির পক্ষ নেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে আগ্রহী সরকারসহ সব বাংলাদেশির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী।
অচিরেই বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের উন্নয়ন ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট।
ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে যে সমস্যা চলছে বাংলাদেশকেই এর সমাধান করতে হবে। আমি আশা করি সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বাস, ট্রেনে হামলা ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের কাজ চলতে পারে না।’
এক্ষেত্রে সব পক্ষকে অহিংস ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ করার পরামর্শ দেন বার্নিকাট। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করব এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চেষ্টা করে যাব।’
নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন দূত বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অবস্থান পরিষ্কার করেছে। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট।’
রাজনৈতিক অচলাবস্থা সমাধানে সংলাপ প্রসঙ্গে বার্নিকাট বলেন, ‘আমি আশা করি, এই সমস্যা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করতে সক্ষম। অচিরেই রাজনৈতিক সংকটের উন্নয়ন ঘটবে বলে আমার বিশ্বাস।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের। জনগণ সরকারকে সাহায্য করতে পারে মাত্র।
মধ্যপ্রাচ্যে আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্র যে জোট করেছে, বাংলাদেশ সেটাকে সমর্থন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্তি করেন এই মার্কিন দূত।
এএইচ





