তুর্কি সরকারের সঙ্গে ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল-এর গোপন বাণিজ্য সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা। এ খবর ফাঁস করেছে ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত (রোববারের) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশ্চাত্যের ওই সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, আইএসআইএল-এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুর্কি কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ সংক্রান্ত দলিল-প্রমাণগুলো 'অনস্বীকার্য'।
গত মে মাসে সিরিয়ায় আইএসআইএল-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবু সাইয়াফের আস্তানায় হামলা চালানোর পর এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তুর্কি সরকারের অঘোষিত দহরম-মহরমের দলিল-প্রমাণগুলো পাওয়া গেছে। ওই হামলায় আবু সাইয়াফ নিহত হয়।
ওই আস্তানা থেকে শত শত ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ও দলিল-প্রমাণ আটক করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা ওই কর্মকর্তা জানান। 'এইসব দলিল-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। তবে তুর্কি-আইএসআইএল দহরম-মহরম এতই স্পষ্ট যে তা ওয়াশিংটন-আঙ্কারা সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।'-মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
আইএসআইএল পূর্ব সিরিয়ার তেলক্ষেত্রগুলো থেকে তেল পাচার করছে। আর তুরস্ক হচ্ছে এই তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা।
আইএসআইএল-এর বেশিরভাগ সন্ত্রাসীই তুরস্কে আশ্রয় ও এমনকি প্রশিক্ষণ পেয়ে এসেছে এবং তারা মূলত তুর্কি সীমান্ত দিয়েই সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করে থাকে। তুরস্কের প্রায় তিন হাজার নাগরিক এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএসআইএল-এর সঙ্গে তুর্কি সরকারের গোপন বাণিজ্য সম্পর্কের খবর এমন সময় প্রকাশিত হল যখন তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর ও উত্তর ইরাকের কুর্দি পিকেকে গেরিলাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।
তবে বেশিরভাগ তুর্কি বিমান হামলা মূলত কুর্দি গেরিলাদের ওপরই চালানো হচ্ছে বলে খবর এসেছে।
আইএসআইএল ইরাক ও সিরিয়ার তেল-গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে জ্বালানী পণ্য পাচার করে প্রতি মাসে চার হাজার কোটি ডলার আয় করে বলে এর আগে খবর দিয়েছিলেন মার্কিন উপ-অর্থমন্ত্রী।
আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলও আইএসআইএল-এর অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রেডিও তেহরান
এসএইচ





