সারা বিশ্বে মানবাধিকার, নারী অধিকার, বর্ণবাদ নিরসন, জঙ্গিদমনের কথা বলে আমেরিকা প্রত্যেকটি দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাগ গলায়।কিন্তু আমেরিকার নিজ দেশের এই অবস্থা দেখে যে কেউ বলবে 'নিজের ঘরের ঠিক নাই, আরেক জনের ঘর বানায়।'
গত ৬আগস্ট সেন্ট লুইসের ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আন্দোলন শুরু করে সেখানকার বাসিন্দারা। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদ আচরনের’ অভিযোগ আনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ভাষণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান করলেওপ্রেসিডেন্টের আহ্বান উপেক্ষা করেই আন্দোলন অব্যাহত রাখে জনতা।
গত সোমবার দেশটির সরকারি আইনজীবী রবার্ট ম্যাককুল্লোচ বলে, ফার্গুসন হত্যাকাণ্ডে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পারায় তাকে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন গ্রান্ড জুরিবোর্ড।
১৮ বছরের মাইকেল ব্রাউন নিরস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে হত্যার দায় থেকে পুলিশকে অব্যাহতি দেয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভবন ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং দোকানপাটে লুটতরাজ চালায়। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের কাছে গুলির শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও মরিচগুঁড়ো স্প্রে করতে হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর যাতে কোনো বিক্ষোভ-ভাংচুর কিংবা লুটপাট না করা হয় সে জন্য আগেই ব্রাউনের পরিবার এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু আদালতের রায়ের পর তাদের সে আহ্বান বৃথায় পর্যবসিত হয়েছে। গত আগস্ট মাসে ব্রাউনকে গুলি করে হত্যার পর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ-সহিংসতা হয় এবং পুলিশি তৎপরতার কৌশল ও বর্ণবাদ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়।
সহিংস বিক্ষোভ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসনে আরো ২২ শতাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। মিশৌরির সিনেটের নির্দেশে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান।
মিশৌরি গভর্নর জে নিক্সন জানিয়েছেন, 'ফার্গুসনে ২২ শতাধিক অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবকিছু করা হচ্ছে।'
বিবিসি সংবাদে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ফার্গুসনের অবস্থা শান্ত থাকলেও নতুন করে নিউ ইর্য়ক, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলস বোস্টন, ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিক্ষোভের তেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদে সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে যথাযথ বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ এ সমাবেশ চলবে বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে ব্রাউনকে গুলি করে হত্যার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন ড্যারেন উইলসন। নিজের কাজ সঠিক ছিল দাবি করে এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘সেখানে অন্য কেউ থাকলে এর বিপরীত কিছু ঘটতো না।’ ওই সময় জীবনের ঝুঁকিতে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ব্রাউন হত্যাকাণ্ডে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
এই মাসের গত সাপ্তাহে বিনা অপরাধে ৪০ বছর কারাভোগের পর দুই মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। একটি সাজানো হত্যা মামলায় ৪০ বছর আগে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাই সব মিলিয়ে অবস্থা ভায়াবহ রূপ নিতে পারে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।তথ্যসূত্র : বিবিসি।
ইআর





