শেষ পর্যন্ত গুজবই ঘুরেফিরে সত্যি হয়। এবং এটি প্রমাণিত হয়- কিছু ঘটে, তবেই না তা রটে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৯তম প্রেসিডেন্টের ‘অবৈধ সন্তান’ ছিল, অবশেষে তা প্রমাণিত হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিংয় প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নান ব্রিটন নামের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার ঔরশে নান ব্রিটনের গর্ভে আসে এক সন্তান। কিন্তু হার্ডিং তখন বিবাহিত এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার ভরা পরিবার ছিল।

উল্লেখ্য, ৪ মার্চ ১৯২১ থেকে ২ আগস্ট ১৯২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওয়ারেন হার্ডিং।

এখন এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, নান ব্রিটনের মেয়ে এলিজাবেথ অ্যান ব্লেইসিং প্রেসিডেন্ট হার্ডিংয়ের ঔরশজাত সন্তান।

এ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। নান ব্রিটন যখন দাবি করেন, এলিজাবেথ ব্লেইসিং প্রেসিডেন্ট হার্ডিংয়েরই মেয়ে, তখন তিনি হার্ডিংয়ের পবিরারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। সমাজও তাকে মেনে নেয়নি, তার কথা শোনেনি। ফলে ব্লেইসিং হয়ে যায় পিতৃপরিচয়হীন অবৈধ সন্তান। প্রেসিডেন্ট হার্ডিংকে স্বামী দাবি করায় অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে নান ব্রিটনকে।

হার্ডিং ও ব্রিটন কেউ-ই এখন বেঁচে নেই। কিন্তু পিতৃত্বের পরিচয় আদায়ে হাল ছাড়েননি ব্লেইসিং। লড়ে গেছেন একাই। শেষ পর্যন্ত তারই জয় হলো। পেলেন স্বীকৃতি। অবৈধতার যন্ত্রণা ঝেড়ে ফেলতে পেরেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট হার্ডিংয়ের এক ভাইপো চিকিৎসক পিটার হার্ডিং ব্লেইসিংয়ের বংশগতির ধারক ডিএনএ পরীক্ষা করেছেন। ব্লেইসিংয়ের ডিএনএ ও হার্ডিংয়ের ডিএনএ একই। ফলে বলতে কোনো বাধা নেই, ব্লেইজিং প্রেসিডেন্ট হার্ডিংয়ের মেয়ে।

ডিএনএ পরীক্ষায় বংশগতি সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু হার্ডিং ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯২৩ সালে মারা যান। প্রায় ১০০ বছর পরে তার সন্তানদের প্রজন্মের ডিএনএ থেকে সঠিক বংশপরিচয় নির্ণয় করা একটু কঠিন। তবে সর্বাধুনিক ডিএনএ পরীক্ষায় তা সম্ভব হয়েছে। ফলে ব্লেইসিংয়ের বাবার পরিচয় নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

এমআর