চলতি সেপ্টেম্বর মাসের যে কোনো দিন ফের ভারতীয় আদালতে নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার কার্য।

ইতোপূর্বে এক দফা ভারতে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে আইনি সহায়তা দিতে যাওয়া আইনজীবী ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট আব্রাহাম লিঙ্কন শনিবার একথা জানিয়েছেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে শনিবার ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, মামা আবু হানিফ এডভোকেট আব্রাহাম লিঙ্কন ভারতে যাওয়ার ভিসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে রাজশাহীতে ভারতীয় হাই কমিশনে যান। কোনো ধরনের জটিলতা কিংবা সরকারি সবকিছু ঠিক থাকলে এবং সময়মতো ভিসা পাসপোর্ট হলে এ মাসের যেকোনো দিন ভারতের কুচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে পুনরায় ফেলানী হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এতে ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে ফেলানীর বাবা, মামা ছাড়াও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিঙ্কন ও ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ।

এ বিষয়ে ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ জানান, শিগগিরই ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হবে। সে অনুযায়ী ভিসা তৈরির কার্যক্রম চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাটাতারের বেড়ায় বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী। সে সময় ফেলানীর লাশ কাটা তারের বেড়ায় চার ঘণ্টা বাদুরের মতো ঝুলে থাকার ছবিটি সারা বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয় এবং সকল মিডিয়ায় চলে আসে।

এরপর এক দফা ফেলানীর হত্যাকারী ভারতের অমীয় ঘোষের বিরুদ্ধে বিএসএফের আদালতে সাক্ষ্য দেন তার বাবা-মা। এরপর সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়; যা ফেলানীর বাবা মা ও তার স্বজনরা মেনে নেননি। পরে এ ঘটনায় বিচার কাজ শুরু হলেও ভারতে বিএসএফ’র বিশেষ আদালত ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। পরে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। দেশি-বিদেশি চাপে শেষ পর্যন্ত এ মাসে পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার কাজ।

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ