আফগানিস্তান ছাড়তে ইচ্ছুক বেসামরিক নাগরিকদের দেশত্যাগ নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে আয়োজিত বিশেষ এক বৈঠক থেকে এই আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ আল-উসাইমিন আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান করেন, তারা যেনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারের প্রতি সম্মান জানায়।

ওআইসির বিশেষ বৈঠকের পর সংস্থাটি থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের জনগণের স্বার্থে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, 'বৈঠক থেকে সব পক্ষকে আহ্বান করা হচ্ছে আফগান জনগণের স্বার্থে একত্রে কাজ করার, সহিংসতা পরিহার করার এবং অবিলম্বে আফগান সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার সাথে সাথে আফগান জনগণের স্থিতিশীলতা, মর্যাদাপূর্ণ জীবন, অধিকার ও উন্নতির প্রতি শ্রদ্ধায় আকাঙ্ক্ষা অনুসারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার।'

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান। পরে জুলাইয়ে সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ও তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান যোদ্ধারা। তথ্যসূত্র : সিয়াসত ডেইলি।

এবিএস