দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। রাজধানীর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের অভিযোগ, তরুণদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ দাবি করেছে, বর্তমান সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সংগঠনটির ভাষ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং তরুণদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বাজেট ও নীতিতে বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেই।
বর্তমান আন্দোলনের মধ্যে ২০২৩ সালে প্রেম আচার্যের আত্মাহুতির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সে সময় কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বালেন্দ্র শাহ ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংকটে তার নীরব অবস্থান নিয়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলছেন।
ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাসছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নেপালের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বালেন্দ্র শাহ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যানজট কিছুটা কমলেও হকার ও বস্তিবাসীদের একটি অংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।
রাজনীতির বাইরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। গত বছরের সেপ্টেম্বরের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তার গাওয়া ‘নেপাল হাসেকো’ (হাসছে নেপাল) গানটি আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে হওয়া ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়।
পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দল বড় ধরনের জয় পায়, যা নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডও গড়েন।
সূত্র: এনডিটিভি
এস