চিরকুটবাহী বোতল সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে তীরে এসে পৌঁছেছে- এরকম নাটকীয় ঘটনা আমরা সিনেমায় বা গল্প-উপন্যাসে পেয়ে থাকি।

বাস্তবেও এমন ঘটনার কথা মাঝে মধ্যে শোনা যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সমুদ্র সৈকতে চিরকুটবাহী এমন একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে যেটি ১৩২ বছর আগের।

ধারণা করা হচ্ছে, বোতলটি জার্মানির একটি জাহাজ থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিলো ভারত মহাসাগরে। সামুদ্রিক স্রোতের গতিপথের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্যে এটি নিক্ষেপ করা হয়েছিলো।

টনিয়া ইলম্যান বোতলটি প্রথম দেখতে পান। তিনি মনে করেছিলেন বিষয়টি সত্য নয়। কেউ হয়তো মজা করার জন্যে এরকম একটা ঘটনা তৈরি করেছে। কিন্তু পরে অস্ট্রেলিয়ার একটি জাদুঘর বোতলের ভেতরের বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করে।

পার্থ শহরের টনিয়া ইলম্যানের স্বামী কিম ইলম্যান জানান, বোতলের ভেতরে জার্মান ভাষায় লেখা কিছু কাগজ দেখতে পান তারা। কিন্তু সেগুলো কী সেই বিষয়ে লেখা, সেটা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিলো না। তারা সেটি বাড়িতে নিয়ে যান ও ওভেনের ভেতরে ঢুকিয়ে ভালো করে শুকিয়ে নেন। এক পর্যায়ে তারা দেখেন, বোতলের ভেতরে রাখা কাগজে লেখা রয়েছে ১২ জুন, ১৮৮৬।

ধারণা করা হচ্ছে, জার্মান ন্যাভাল অবজারভেটরি থেকে বোতলটি সমুদ্রে ফেলা হয়েছিলো জাহাজের রুট সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্যে। এর আগে এরকম বোতলের ভেতরে সবচেয়ে পুরনো যে বার্তা পাওয়া গিয়েছিলো সেটি ছিলো ১০৮ বছরের পুরনো।

টনিয়া ইলম্যান বোতলটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর ভেবেছিলেন এটিকে তিনি তার বুক শেলফে সাজিয়ে রাখবেন। কিন্তু পরে তিনি দেখতে পান এর ভেতরে কিছু একটা লেখা। সেখানে উল্লেখ করা আছে, কেউ যদি এই বোতলটি কুড়িয়ে পান তাহলে জার্মান কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সেখানে জাহাজের নাম উল্লেখ রয়েছে- পাওলা।

তখন তাদের সন্দেহ হয় যে, এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে। তারা অনলাইনে বোতলটি নিয়ে গবেষণা করেন ও এক পর্যায়ে যোগাযোগ করেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।

ওই জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর রস অ্যান্ডারসন জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। সূত্র: বিবিসি।

এএস