আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশ তালেবানের দখলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত দুই দিনে সেখানে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৯০ সেনা নিহত হয়েছেন।

হেলমান্দের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ জান রাসুলইয়ার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তালেবানরা ইতোমধ্যেই হেলমান্দের সাঙ্গিন জেলার পুলিশ সদরদপ্তর দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার অন্যান্য স্থানেও লড়াই চলছে।

এদিকে, রবিবার ফেসবুকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কাছে প্রদেশটি রক্ষার আবেদন করেছেন রাসুলইয়ার। কয়েক বছর ধরে এটি রক্ষার জন্য লড়াই করছে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারা।

প্রেসিডেন্ট গনিকে উদ্দেশ্য করে রাসুলইয়ার লিখেছেন, ‘আমি জানি যে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরায় আপনি ক্ষুব্ধ হবেন। কিন্তু আমি তো আর নীরব থাকতে পারছি না’।

গনিকে লেখা বার্তায় তিনি আরও বলেন, হেলমান্দ পতনের তীরে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুদিনের গেরেশক এবং সাঙ্গিন জেলায় ৯০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও লিখেছেন- কিছু না করলে হেলমান্দ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

ঐ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, "সহকর্মীরা প্রেসিডেন্টকে সঠিক চিত্রটি বলছেন না," এ জন্যই তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি তার হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করছেন।

ফেসবুকের স্টেটাসে মি রাসুলইয়ার প্রেসিডেন্ট গনিকে উদ্দেশ্যে করে লিখেছেন, "তাড়াতাড়ি কিছু করুন। জীবণ-মরণ অবস্থা থেকে হেলমান্দকে বাঁচান। যারা আপনাকে বলছে, সবকিছু স্বাভাবিক আছে, তাদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিন।"

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে কোনও আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে থেকে ইন্টারনেটে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে এভাবে খোলাখুলি সরকার বা প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কথা বলার কোনও নমুনা বিরল।

ফেসবুকে এই বার্তায় স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েছে আফগান সরকার।

তাৎক্ষণিকভাবে গনির অফিস রাসুলইয়ারের পোস্টে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে, কাবুলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হেলমান্দের পতন এবং ৯০ সেনার মৃত্যুর খবর দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

তবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেদিক সিদ্দিকী বলেছেন, মি রাসুলইয়ার হেলমান্দে যে প্রাণহানির কথা লিখেছেন, সে ব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা রাসুলইয়ারের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন সাঙ্গিনের মত জেলায় তালেবানরা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

হেলমান্দের এ খবর দক্ষিণাঞ্চলীয় কুন্দুজ শহরের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহরটি দখল করে নিয়েছিল তালেবানরা। সেটা ছিল গত ১৪ বছরের মধ্যে তাদের কোনো বড় বিজয়।

শেষ পর্যন্ত হেলমান্দের পতন হলে তা হবে দেশটিতে মোতায়েন ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য আরেকটি আঘাত।

কেবি